ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার প্রয়োগ করতে চাওয়া নাগরিকদের ঠেকাতে নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কংগ্রেস নেতা শশী থারুর। শহরজুড়ে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর মোতায়েন, সড়কে ব্যারিকেড, ট্রেন বাতিল এবং মেট্রো স্টেশন বন্ধের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে এসব কথা বলেন শশী থারুর। তার ভাষ্য, রাজধানীতে এমন পরিস্থিতি তিনি আগে খুব কমই দেখেছেন।
পোস্টে শশী থারুর লেখেন, রাত ২টার পর রাজধানীতে ফিরে তিনি দেখেছেন, কয়েকশ মিটার পরপর তল্লাশিচৌকি বসানো হয়েছে। সড়কে রাখা হয়েছে কংক্রিটের প্রতিবন্ধক ও স্পাইক স্ট্রিপ। পুরো শহরে ২২ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ ছাড়া ২৫০টি ট্রেন বাতিল এবং ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
শশী থারুরের অভিযোগ, দিল্লি ও আশপাশের এলাকায় তরুণদের কেউ কেউ নিজ বাড়ি থেকে, আবার কাউকে সড়ক থেকে আটক করা হচ্ছে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে নাগরিকদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রশ্ন তোলা ঠেকাতেই এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টিকে আরও উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করেন এই কংগ্রেস নেতা। তার মতে, এমন পদক্ষেপ নাগরিক স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের পরিপন্থী।
তিনি বলেন, দিল্লির কেন্দ্রস্থলে নাগরিকদের প্রতিবাদ জানানোর সুযোগ করে দিতেই জন্তর মন্তর নির্ধারণ করা হয়েছিল। অথচ এখন সেই স্থানে যাওয়ার সড়কও চলাচলের অনুপযোগী করে রাখা হয়েছে। রাজধানীতে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনের সময় এই বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী ও প্রশাসনিক তৎপরতা কোথায় থাকে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শশী থারুর বলেন, বিক্ষোভকারীরা যদি সোমবার আবার ফিরে আসেন, তাহলে কর্তৃপক্ষ কি আবারও পুরো রাজধানী অবরুদ্ধ করবে? তরুণ প্রজন্মের জন্য এমন পরিস্থিতি কাম্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পোস্টে তিনি ‘আনডিক্লেয়ার্ড এমার-জেনজি’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতির সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের প্রসঙ্গ টানেন।
শশী থারুরের মতে, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে আত্মবিশ্বাসী কোনো সরকার এ নিয়ে নাগরিকদের প্রশ্নকে স্বাগত জানাবে। কিন্তু প্রশ্ন এড়াতে রাজধানীকে দুর্গের মতো করে তোলা হলে মানুষের সন্দেহ আরও বাড়বে। তার ভাষায়, সরকারের উচিত লাঠিপেটার বদলে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এবং দমন-পীড়নের পরিবর্তে মতপ্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা।
তিনি আরও বলেন, ব্যারিকেড বসিয়ে নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। জনসাধারণের প্রশ্নের জবাব যত দ্রুত দেওয়া হবে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পথও তত দ্রুত তৈরি হবে।
গণতন্ত্রের শক্তি নির্ধারিত হয় তার কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলা মানুষদের সঙ্গে রাষ্ট্র কেমন আচরণ করে, তার ভিত্তিতে—পোস্টে এমন মন্তব্য করে দিল্লির পরিস্থিতিকে লজ্জাজনক ও অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেন শশী থারুর।