যুদ্ধবিরতির বার্ষিকীতেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা, নিহত অন্তত ৫

যুদ্ধবিরতির বার্ষিকীতেও ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। গাজা সিটির পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে চালানো দুটি পৃথক ড্রোন হামলায় অন্তত পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

স্বাস্থ্য সূত্রের বরাত দিয়ে আনাদোলু এজেন্সির এক সংবাদদাতা জানান, গাজা সিটির পশ্চিমে হায়দার জংশনের কাছে একদল ফিলিস্তিনিকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা চালায়। এতে চারজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হন। এ ছাড়া শহরের পূর্বাঞ্চলের তুফফাহ এলাকায় আরেকটি ড্রোন হামলায় এক ফিলিস্তিনি নিহত হন। এ ঘটনায়ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে এক নারী আহত হয়েছেন। গাজা সিটির উপকূলে ইসরায়েলি নৌযান থেকে গুলি চালানো হয়। একই সময়ে শহরের পূর্বাঞ্চলে সামরিক যান থেকেও গুলিবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে।

ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিম গাজা সিটিতে নিজের তাঁবুতে ইসরায়েলি হামলায় আহত মার্তির আবদুর রাজ্জাক আল-নাজ্জার ভোরে মারা যান। এদিকে ছয় বছর বয়সী এক শিশুকন্যার মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।

ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যমগুলো আরও জানিয়েছে, গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলের তুফফাহ ও শুজাইয়া এলাকার বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি কামানের গোলাবর্ষণ হয়েছে। সামরিক যান থেকেও গুলি চালানো হয়। খান ইউনিসের উত্তরে ইসরায়েলি সামরিক যান থেকে গুলিবর্ষণ, উপকূলে নৌযান থেকে হামলা এবং পূর্বাঞ্চলে হেলিকপ্টার থেকে হামলার খবর পাওয়া গেছে।

মধ্য গাজার মাগাজি শরণার্থীশিবিরের পূর্বদিকে কয়েকটি বাড়িও ইসরায়েলি বাহিনীর গোলাবর্ষণের শিকার হয়েছে। একই সঙ্গে দেইর আল-বালাহ শহরের পূর্বাঞ্চলেও কামানের গোলা নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

গাজায় ১১৭টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত

গত ৮ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে ১১৭টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফিলিস্তিনি বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদপ্তরের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, বৃহস্পতিবার দক্ষিণ গাজা সিটির সাবরা এলাকায় বোমাবর্ষণের পর মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন চালিয়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও মানুষের দুর্ভোগের চিত্র পাওয়া গেছে।

বাসালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ১২টি অ্যাপার্টমেন্ট সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং ৪১টি অ্যাপার্টমেন্ট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া ৬৪টি অ্যাপার্টমেন্ট আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি জানান, হামলায় ৮০০ জনের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বোমাবর্ষণ বন্ধ হওয়ার পরও এর পরিণতি শেষ হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন আশ্রয়ের সন্ধানে ঘুরছে।

গত ৮ অক্টোবর গাজা সিটির দক্ষিণাঞ্চলের সাবরা এলাকায় একটি ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৫৪ বছর বয়সী ইনতিসার আবু আসর ও ১০ বছর বয়সী হুসাম হুসো নিহত হন। ওই হামলায় আরও নয়জন ফিলিস্তিনি আহত হন।

গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭৪ হাজার ছাড়িয়েছে

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৪ হাজার ৩৭০ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৩৭১ জন। ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইসরায়েলের হামলায় হতাহতদের সর্বশেষ পরিসংখ্যান প্রকাশ করে এ তথ্য জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলি বাহিনী প্রতিদিনই হামলা ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটাচ্ছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় গাজার হাসপাতালগুলোতে ১০ জনের মরদেহ এবং ৬৫ জন আহত ব্যক্তিকে নেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ৪৮১ জন নিহত এবং ৫ হাজার ২৫৪ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৮৩৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে ৩ অক্টোবর থেকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের নথি ও প্রতিবেদন নিয়ে ফরেনসিক মেডিসিন ইনস্টিটিউটের তদন্তে আরও ১০৬ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তাদের নামও মোট নিহতের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।

গাজার বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো হাজার হাজার মরদেহ চাপা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।