রাত তখন সাড়ে ১২টা। কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড থেকে ৩০০ টাকা ভাড়ায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে (১৪) নগরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেছিলেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন (৩৫)। কিন্তু বাসায় পৌঁছে দেওয়ার বদলে তাকে অন্য স্থানে নিয়ে যান চালক। পুলিশের দাবি, সেখানে তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন সুমন। পরদিন সকালে একটি ফসলি জমি থেকে উদ্ধার করা হয় ওই ছাত্রীর মরদেহ।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সুমনকে শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন একাই এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন।
শনিবার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পংকজ বড়ুয়া।
এর আগে সকালে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পংকজ বড়ুয়া জানান, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে তাজমিনকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় সুমনের একক সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। হত্যার পর ছাত্রীর ব্যাগ থেকে মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যায় সে। পরে একটি পুকুরে গোসল করে বাখরাবাদ এলাকার একটি জঙ্গলে মুঠোফোনটি লুকিয়ে রাখে। এরপর চট্টগ্রামে চলে যায়।
পুলিশ জানায়, অটোরিকশার নিবন্ধনের সূত্র ধরে এর মালিক লালমাই উপজেলার আবুল হাসেমকে শনাক্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি চালক হিসেবে সুমনের নাম জানান। এরপর শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে আটক করা হয়।
সুমনকে কুমিল্লায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেখানো স্থান অনুযায়ী, শহরতলির বাখরাবাদ এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তাজমিনের মুঠোফোন উদ্ধার করে পুলিশ।
সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। কয়েক বছর আগে বিয়ে করে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জয়নগর গ্রামে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস শুরু করেন।
ফসলি জমিতে পাওয়া যায় মরদেহ: গত বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগৎপুর গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি কুমিল্লা নগরের ফরিদা বিদ্যায়তন উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির অনিয়মিত ছাত্রী ছিলেন।
তাজমিনের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার চূড়ামনকাঠি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা এলাকায়। তার বাবা আব্দুল আলীম একটি বেসরকারি ওষুধ কোম্পানিতে কুমিল্লা জেলায় কর্মরত। পরিবারের সঙ্গে নগরের রেসকোর্স এলাকার একটি বাসায় থাকতেন তাজমিন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অটোরিকশায় তোলার পর তাজমিনকে নির্ধারিত গন্তব্যে না নিয়ে অন্য স্থানে নিয়ে যান সুমন। সেখানে ধর্ষণের পর তাকে ধানখেতে নিয়ে গামছা দিয়ে গলা পেঁচিয়ে এবং মাথা চেপে ধরে হত্যা করা হয়। পরে তাঁর মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যান চালক।
এ ঘটনায় সুমনকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।