ইনামুল হকের চলে যাওয়ার পাঁচ বছর

একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য অভিনেতা, নাট্যকার ও শিক্ষাবিদ ড. ইনামুল হকের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০২১ সালের আজকের দিনে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। ১৯৪৩ সালের ২৯ মে ফেনী সদর উপজেলার মোটবী ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন এই গুণী শিল্পী। বাবা ওবায়দুল হক ও মা রাজিয়া খাতুনের সন্তান ইনামুল হক ফেনী পাইলট হাইস্কুল ও নটর ডেম কলেজ পেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) শিক্ষকতা করেন।

অভিনয় ও নাট্যচর্চায় তার পথচলা ছিল বর্ণাঢ্য। বিখ্যাত ‘নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়’ দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে মঞ্চে তার যাত্রা শুরু হয়। আতাউর রহমানের নির্দেশনায় ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ নাটকের মধ্য দিয়ে প্রথম মঞ্চে পা রাখেন। এরপর ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’ ও ‘নূরুল দীনের সারা জীবন’-এর মতো নন্দিত নাটকে অভিনয় করেন। ১৯৯৫ সালে ‘নাগরিক নাট্যাঙ্গন’ নামে নিজস্ব নাট্যদল প্রতিষ্ঠা করেন। নিজ দলের জন্য তার লেখা প্রথম নাটক ‘গৃহবাসী’ ১৯৮৩ সালে মঞ্চে বেশ সাড়া ফেলে। টেলিভিশনের জন্য তিনি প্রায় ৬০টি নাটক রচনা করেছেন। এর মধ্যে ‘সেইসব দিনগুলি’, ‘নির্জন সৈকতে’ ও ‘কে বা আপন কে বা পর’ দর্শক হৃদয়ে চিরভাস্বর হয়ে আছে। অনেক গুণীশিল্পী ও অভিনেতার সমাগমে মুখর ছিল তার এই নাট্যভুবন।

শিল্পীর পুরো পরিবারটিই নাট্যাঙ্গনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। তার স্ত্রী লাকী ইনাম দেশের কিংবদন্তি অভিনেত্রী। বড় মেয়ে হৃদি হক সফল অভিনেত্রী ও নির্দেশক, আর তার স্বামী লিটু আনাম গুণী অভিনেতা। ছোট মেয়ে প্রৈত্রি হকের স্বামীও পরিচিত মুখ অভিনেতা ও উপস্থাপক সাজু খাদেম।