দুই সেঞ্চুরির দিনে মেহেদীর ৬ উইকেট

জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথম দিনটা ছিল ব্যাটারদের দাপটের। দুটি সেঞ্চুরির পাশাপাশি দেখা গেছে বেশ কয়েকটি আশি-ঊর্ধ্ব ইনিংস। কোথাও ব্যাটাররা গড়েছেন বড় জুটি, কোথাও রান উঠেছে পাহাড়সম। এমন ব্যাটিং-বান্ধব দিনের ব্যতিক্রমী পারফরম্যান্স শেখ মেহেদী হাসানের। তার ঘূর্ণিতে মাত্র ১১৯ রানেই গুটিয়ে গেছে রাজশাহী বিভাগ। ৩৮ রান খরচায় ৬ উইকেট নিয়ে দিনের অন্যতম সেরা পারফরমার খুলনার এই এই স্পিনার।

জাপানে এশিয়ান গেমস খেলতে যাওয়ার কারণে এনসিএলের প্রথম রাউন্ডে ছিলেন না মেহেদী। ফেরার ম্যাচে গতকাল মিরপুরে রাজশাহীর ব্যাটারদের একেবারেই সুবিধা করতে দেননি তিনি। ১১৯ রানেই গুটিয়ে যায় তারা। ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩৬ রান করেন সাব্বির হোসেন। এসএম মেহরবের ব্যাট থেকে আসে ২১ রান। এই দুই ব্যাটারের পাশাপাশি অধিনায়ক প্রিতম কুমার, শাকির হোসেন, সানজামুল ইসলাম ও নিহাদ উজ জামানের উইকেট তুলে নেন মেহেদী। এ নিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৯ বার পাঁচ উইকেটের স্বাদ পেলেন এই স্পিনার। তার সঙ্গে সফর আলী তিনটি ও সামিউন বশির রাতুল ১ উইকেট শিকার করেন।

এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে ১ উইকেটে ১০৮ রান তুলেছে খুলনা। উদ্বোধনী জুটিতে এনামুল হক বিজয় ও আজিজুল হাকিম ৪৪ রান করেন। ৩৭ বলে ২২ রান করে ফেরেন বিজয়। অন্য প্রান্তে দারুণ ব্যাটিংয়ে অর্ধশতক তুলে নিয়েছেন তামিম। ৯৯ বলে ৫৫ রানে অপরাজিত আছেন তিনি। কালাম সিদ্দিকী অপরাজিত ২৮ রানে। হাতে ৯ উইকেট নিয়ে প্রথম ইনিংসে রাজশাহীর চেয়ে মাত্র ১১ রানে পিছিয়ে খুলনা।

সিলেটে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ঢাকা বিভাগ প্রথম দিন শেষ করেছে ২ উইকেটে ৩৪৩ রান নিয়ে। দলের হয়ে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন নাঈম শেখ। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তার পঞ্চম শতক। ৩২৮ মিনিট ব্যাট করে ২১৫ বলে ১১টি চার ও ৩টি ছয়ের সাহায্যে ১৩১ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। জানা গেছে, দীর্ঘক্ষণ ব্যাট করার কারণে কনুইয়ে ব্যথা অনুভব করায় উঠে যান এই বাঁহাতি ওপেনার। তবে আজ আবার ব্যাটিংয়ে নামতে পারবেন বলে আশা করছেন ঢাকা বিভাগের কোচ মিজানুর রহমান। উদ্বোধনী জুটিতে নাঈমের সঙ্গে ১৫৫ রানের জুটি গড়া জিসান আলম ১৩২ বলে ৮১ রান করে আউট হন। মার্শাল আইয়ুব ১১১ বলে ৮০ রানে অপরাজিত থেকে সেঞ্চুরির অপেক্ষায় আছেন। মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন অপরাজিত ৩২ রানে। সিলেটের হয়ে দুটি উইকেটই পেয়েছেন নাসুম আহমেদ।

পাশের মাঠে ময়মনসিংহ বিভাগের বিরুদ্ধে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর বিভাগও ব্যাট হাতে বড় সংগ্রহের পথে রয়েছে। মিম মোসাদ্দেকের ১৫৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস এবং ইকবাল হোসেনের ৭৮ রানে গড়ে ওঠে দ্বিতীয় উইকেটে ২০৮ রানের জুটি। পরে আবদুল্লাহ আল মামুনের ৬১ রান ও অধিনায়ক আকবর আলীর ৩০ রানের সৌজন্যে প্রথম দিন শেষে ৬ উইকেটে ৩৭০ রান করেছে রংপুর। ময়মনসিংহের হয়ে গালিব ও আজিজুল হাকিম রনি দুটি করে উইকেট নিয়েছেন।

এদিকে ব্যাটিং ব্যর্থতা থেকে বের হতে পারছে না বরিশাল বিভাগ। কক্সবাজারে চট্টগ্রাম বিভাগের বিপক্ষে খেলতে নেমে ২৮২ রানে অলআউট হয়েছে তারা। মঈন খানের ৯৭ ও ওপেনার জাওয়াদ আবরারের ৬৩ রানের ইনিংসে বড় বিপর্যয়ের হার থেকে রক্ষা পায় তারা। চট্টগ্রামের হাসান মুরাদ চার উইকেট নেন। এরপর বিনা উইকেটে ৭২ রান তুলেছে চট্টগ্রাম। সাদিকুর রহমান ৪১ ও মাহমুদুল হাসান ২৯ রানে অপরাজিত আছেন।