আবুধাবিতে এবার চট্টগ্রাম ফিরবে না তো! মনের মধ্যে এমন খচখচানি হওয়ার যথেষ্ট কারণও আছে। ২০১৯ সালে টেস্টে প্রথমবার আফগানিস্তানের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। সেবার ঘরের মাঠে খেলতে নেমেও যেন সব বিস্ময় ছাপিয়ে যায়। নবাগত একটা দলের বিপক্ষে ২২৪ রানে হেরে মাথা নিচু হয় সাকিব আল হাসানদের। নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টেস্ট খেলছেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। সবে ২ দিনের খেলা শেষ হয়েছে। এখনই চট্টগ্রামের স্মৃতি ফেরার আশঙ্কা করা হয়তো বাড়াবাড়ি শোনাতে পারে। কিন্তু সে ম্যাচে সেঞ্চুরি করা রহমত শাহ এই ম্যাচেও একই পথে হাঁটছেন। দলকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশি বোলারদের পরীক্ষা নিচ্ছেন তিনি। আফগানরা এখনো ১৩৫ রানে পিছিয়ে থাকলেও হাতে ৬ উইকেট তাদের। আজ তৃতীয় দিনে দ্রুত লাগাম টেনে ধরতে না পারলে চাপ আরও বাড়বে বাংলাদেশের ওপর।
বাংলাদেশকে প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রানে অলআউট করে আফগানিস্তান। এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ উইকেটে ২১১ রান তুলে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে তারা। অধিনায়ক রহমত ৮৪ এবং উইকেটরক্ষক-ব্যাটার ইকরাম আলিখিল ২৬ রান নিয়ে আজ তৃতীয় দিন ব্যাটিংয়ে নামবেন। দুজনের ৭২ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটি সফরকারীদের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও নিজেদের এখনই ‘ব্যাকফুটে’ মানতে চাচ্ছে না বাংলাদেশ দল। দলটির স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আশা করি আমরা ডিফেন্ড করতে পারব এবং দ্বিতীয় ইনিংসে আরও বেশি রান করতে পারব। তাদের চাপের মুখে ফেলতে পারব।’
গতকাল ৮ উইকেটে ৩১৭ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে বাংলাদেশ। তবে খুব বেশিদূর ইনিংসটাকে টানতে পারেননি অপরাজিত দুই ব্যাটার নাঈম হাসান ও তাইজুল ইসলাম। ২৯ রান যোগ করে বাকি ২ উইকেট হারায় সফরকারীরা। এরপর বল হাতে শুরুতে বেশ নড়বড়ে ছিল বাংলাদেশ দল। একটা রিভিউ নষ্ট করার পর প্রয়োজনের সময় আম্পায়ারকে চ্যালেঞ্জ করেনি তারা। যদিও জীবন পাওয়া ওপেনার সাদিকউল্লাহ অতলকে সুবিধা করতে দেননি হাসান। নিজের শিকার বানান ১৭ রান করা এই ব্যাটারকে। ৩০ রানে উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর শাহিদউল্লাহকে দলীয় ৬৪ রানে ফেরান এবাদত হোসেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের তপ্ত রোদের মধ্যে এই দুই পেসার গতকাল দীর্ঘক্ষণ বল করেন। প্রতিপক্ষের চার উইকেটের ৩টি নেন তারা। বাকি ৩ স্পিনার মিলে পান ১ উইকেট।
অথচ এই ম্যাচে বাংলাদেশ দল পেসার খেলাচ্ছেই মাত্র ২ জন। শরিফুল ইসলাম সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া সফরের এক ইনিংসে ৭ উইকেট নিলেও এই ম্যাচের একাদশে জায়গা পাননি। মূলত এশিয়া কাপ খেলতে যাওয়ায় জাপানের ঠান্ডা আবহাওয়া থেকে আমিরাতে পৌঁছে গরমের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছিল বলে শরিফুল খেলেননি এটাই মনে করেন মুশতাক, ‘আমার মনে হয়, সে এখানে প্রস্তুতির সময় খুব বেশি বল করেনি। হয়তো যথেষ্ট ফিট ছিল না। যদিও আমি অনুমান করছি। তবে শুনেছি, এই গরম আবহাওয়ায় যদি কোনো বোলার কম বোলিং করে, তবে তার পক্ষে এই গরমের মধ্যে টানা পাঁচ দিনের টেস্ট ম্যাচ চালিয়ে যাওয়া খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।’
একই সঙ্গে স্পিনাররা এখনো সাফল্য না পেলেও নিরাশ হচ্ছেন না এই স্পিন বোলিং কোচ, ‘আমার মনে হয়, স্পিনাররা এখানে বড় ভূমিকা পালন করবে। বিশেষ করে প্রথম দিন পিচে স্বাভাবিকভাবেই স্পিন কম ধরবে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এবং এই আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে পিচে স্পিন ধরা শুরু হবে বলে আমার বিশ্বাস।’ গরমের মধ্যে বোলারদের ক্লান্তি নিয়েও বাংলাদেশ দল সতর্ক বলে মন্তব্য করেন মুশতাক, ‘মাঝে মাঝে এই গরমে বল করার সময় এবং আঙুলগুলোর ওপর চাপ পড়ার কারণে খেলোয়াড়রা খুব দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই অধিনায়ক হিসেবে এবং কোচ হিসেবে আমাদের এমন একটি কৌশল তৈরি করতে হয়, যেখানে লম্বা স্পেলের চেয়ে ছোট ছোট স্পেলে বল করাতে হয়।’
এ জন্য কোনো বোলারকে দিয়েই টানা বল করাচ্ছে না বাংলাদেশ দল। এ ছাড়াও মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলামদের খুব বেশি সুবিধাও করতে দিচ্ছেন না আফগানিস্তানের ব্যাটাররা। চা-বিরতির আগে ২ উইকেটে ১৩১ রান তুলে স্বস্তিতে ছিল তারা। বিরতির পর এবাদত ফিরিয়ে দেন থিতু হয়ে যাওয়া ওপেনার আবদুল মালিককে। ১২০ বলে ৬২ রান করেন তিনি। পরের ওভারে রানের খাতা খোলার আগেই মিরাজের বলে স্টাম্পিং হন সাবেক অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহিদি। টানা দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে সফরকারীরা। কিন্তু বাংলাদেশের সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। অধিনায়ক রহমত ও ইকরামের ব্যাটে আবার ঘুরে দাঁড়ায় আফগানরা। ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি সুযোগ বুঝে বাউন্ডারি আদায় করে এবং স্ট্রাইক বদলে তারা বাংলাদেশের বোলারদের চাপে রেখেছেন।