মালদ্বীপে মো. সজিব (২৭) নামের এক বাংলাদেশি যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে তার শোবার ঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সজিবের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ঘটনার পর তার সঙ্গে একই কক্ষে থাকা দুই বাংলাদেশিসহ তিনজন পলাতক রয়েছেন বলে দাবি করেছে পরিবার।
সজিব কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মহালক্ষ্মীপাড়া গ্রামের উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের আবদুল খালেকের ছেলে।
পরিবারের সদস্যদের ধারণা, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে সজিব মারা যান। শনিবার সকালে মালদ্বীপে অবস্থানরত কয়েকজন বাংলাদেশি প্রবাসী ফোন করে তাদের সজিবের মৃত্যুর খবর জানান। পরে তারা জানতে পারেন, সজিবের শোবার ঘর থেকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও জানতে পারেন তারা।
সজিবের চাচাতো ভাই সোহেল জানান, মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তারা বিভিন্ন মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছেন। ঘটনার পর থেকে সজিবের সঙ্গে একই কক্ষে থাকা দুই বাংলাদেশিসহ তিনজনের পলাতক থাকার খবর পেয়েছেন তারা। এ কারণে সজিবের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সন্দেহ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সজিবের বাবা আবদুল খালেক বলেন, পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় তিন বছর আগে তার ছেলে মালদ্বীপে গেছেন। সজিব অবিবাহিত ছিলেন। কারও সঙ্গে তার বড় ধরনের কোনো বিরোধ ছিল বলেও পরিবারের জানা নেই।
পরিবারের সদস্যরা সজিবের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে। পাশাপাশি তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সহযোগিতা কামনা করেছেন।
তবে সজিবের মৃত্যুর ঘটনায় মালদ্বীপের পুলিশের তদন্তের অগ্রগতি, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং পরিবারের দাবি করা তিনজনের পলাতক থাকার বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।