ফুডপ্যান্ডার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ জানাল রেস্তোরাঁ মালিকরা

ফুডপ্যান্ডার বিরুদ্ধে কমিশনের বাইরে নানা ধরনের চার্জ, জটিল হিসাব, অর্ডার বাতিল, অপেক্ষার মাশুল, একতরফা জরিমানা ও রিফান্ডের নামে টাকা কেটে নেওয়াসহ নানা অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি, চট্টগ্রাম মহানগর শাখা।

চট্টগ্রাম নগরীর স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁ শনিবার (১০ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ জানানো হয়।

চট্টগ্রামের রেস্তোরাঁ মালিকদের দাবি, ফুডপ্যান্ডার মাধ্যমে বিক্রির টাকা হাতে পেতেই ১৩ দিন বা তার চেয়েও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। ফলে একদিকে ব্যবসা পরিচালনার খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে মুনাফা সংকুচিত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ফুডপ্যান্ডার একতরফা ও অস্বচ্ছ নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে সব চার্জ মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ সমন্বিত কমিশনের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

এমনকি তাদের দাবি মানা না হলে চট্টগ্রাম মহানগরের রেস্তোরাঁগুলোতে ফুডপ্যান্ডার মাধ্যমে স্থায়ীভাবে অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা বলেন, তারা প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসায়ের বিপক্ষে নন; বরং তারা স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা চান। কিন্তু ফুডপ্যান্ডার বর্তমান নীতিতে রেস্তোরাঁগুলোর ওপর একের পর এক আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে, যার প্রভাব কর্মচারীদের বেতন ও তাদের পরিবারগুলোর ওপর পড়ছে।

তাদের অভিযোগ, চুক্তিতে নির্ধারিত কমিশনের বাইরেও অনলাইন পেমেন্ট চার্জ, অপেক্ষার মাশুল, কমিশনের ওপর ভ্যাট, ট্যাব ফি ও ইন্টারনেট ফিসহ বিভিন্ন খাতে টাকা কেটে নেওয়া হয়। মাস শেষে পাঠানো হিসাবের বিবরণী এতটাই জটিল যে কোন খাতে কেন টাকা কাটা হয়েছে তা বোঝা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে।

এছাড়া ফুডপ্যান্ডার প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা রাইডারের বিলম্বের কারণে অর্ডার বাতিল হলেও তার সম্পূর্ণ আর্থিক ক্ষতি রেস্তোরাঁকেই বহন করতে হয়। খাবার তৈরির পর বাতিল হলে সেই কাঁচামাল ও শ্রমের পুরো লোকসান টানতে হয় মালিকদের। এমনকি গ্রাহকের অভিযোগের সত্যতা যাচাই বা রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য না শুনেই একতরফাভাবে পাওনা টাকা থেকে অর্থ কেটে নেওয়া হয়। অন্যদিকে, বিক্রির টাকা পরিশোধে ১৩ দিন বা তার বেশি সময় ঝুলিয়ে রাখায় দৈনিক পরিচালনা ব্যয়, দোকান ভাড়া ও কর্মচারীদের বেতন মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে দেশীয় খাদ্য সরবরাহকারী প্ল্যাটফর্ম ফুডির উদাহরণ টেনে রেস্তোরাঁ মালিকেরা প্রশ্ন তোলেন, দেশীয় প্রতিষ্ঠান যদি ১৫ শতাংশ সমন্বিত কমিশনে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে, তবে ফুডপ্যান্ডার ক্ষেত্রে কমিশনের বাইরে এত ধরনের লুকায়িত চার্জ থাকবে কেন? এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা কমিশনসহ সব ধরনের অতিরিক্ত চার্জ বাতিল করে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ সমন্বিত কমিশন নির্ধারণ, সহজ ও স্বচ্ছ খাতওয়ারি হিসাব দেওয়া, রেস্তোরাঁর ত্রুটি ছাড়া অর্ডার বাতিল হলে খাবারের সম্পূর্ণ খরচ বহন, রাইডারের বিলম্বের কারণে জরিমানা বন্ধ, নিরপেক্ষ যাচাই ছাড়া রিফান্ডের টাকা কাটা বন্ধ এবং বিক্রির টাকা সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে পরিশোধের মতো ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি মো. ইমতিয়াজ উদ্দিন নওশাদ ও সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল হক।