নেপালে ফের আকস্মিক বন্যার তাণ্ডব

নেপালের গোরখা জেলায় ভূমিধসের কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় ৩৫টির বেশি বাড়িঘর ও সেতু ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও। পরিস্থিতির অবনতি আশঙ্কায় নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। খবর এনডিটিভির। 

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রবিবার (১১ অক্টোবর) দেশটির গোরখা জেলার ছুমনুব্রি গ্রামে বুড়ি গণ্ডকী নদীর পানির উচ্চতা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় এ বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে ৩৫টির বেশি বাড়িঘর ও সেতু ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। 

কয়েক মাস আগে দেশটিতে ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনার পর নতুন করে এই দুর্যোগ দেখা দিল। গত ২৬ আগস্ট হিমবাহ ধসে সৃষ্ট বন্যায় ১ হাজার ৪৫৭ জন নিহত হন এবং হাজারো মানুষ নিখোঁজ হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সকাল সাড়ে ৬টায় বুড়ি গণ্ডকী নদীর পানির উচ্চতা ছিল ৩ দশমিক ৬৬ মিটার। মাত্র দুই ঘণ্টার কিছু বেশি সময়ের মধ্যে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ৪৩ মিটারে। অথচ নদীটির বিপৎসীমা ৫ মিটার।

কর্তৃপক্ষ জানায়, সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে ৮টা ৪০ মিনিটের মধ্যে মাত্র ১০ মিনিটে নদীর পানির উচ্চতা ২ মিটারেরও বেশি বেড়ে যায়।

বন্যার পানির তোড়ে নদীর পানির উচ্চতা পরিমাপের কেন্দ্রটি সেতুসহ ভেসে যাওয়ায় পরবর্তী সময়ে পানির স্তর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে এনডিআরআরএমএ।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ বন্যার পেছনে বৃষ্টিপাতের কোনো ভূমিকা ছিল না বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। স্যাটেলাইট চিত্র ও প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে তাদের ধারণা, নদীর প্রবাহ কোনো কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। পরে সেই বাধা ভেঙে যাওয়ায় হঠাৎ করে প্রবল বন্যার সৃষ্টি হয়।

তবে কী কারণে নদীর প্রবাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং কীভাবে এই বন্যার সূত্রপাত হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে বিস্তারিত কারিগরি বিশ্লেষণ চলছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। 

এদিকে নদীর তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষকে  সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে এবং নদীর পাড় ও ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে দূরে থাকতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা চালাতে নেপাল সেনাবাহিনীকে আকাশ ও স্থলপথে মোতায়েন করা হয়েছে।