নারী ফুটবল প্রতিভা অন্বেষণে চ্যাম্পিয়ন রাজীব রাবেয়া বান

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নারী ফুটবলের প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচির (টিআইপি) টুর্নামেন্টে শিরোপা জিতেছে রাজীব রাবেয়া বান ফুটবল একাডেমি। রবিবার সিলেটে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ভৈরবগঞ্জ এফএকে ৩-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় তারা।

তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান নারী ফুটবলার খুঁজে বের করার লক্ষ্যে আয়োজিত দুই দিনের এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় আটটি আঞ্চলিক একাডেমি। টুর্নামেন্টে নজর কাড়া কয়েকজন ফুটবলারকে জাতীয় দলের উন্নয়ন কার্যক্রমে যুক্ত করার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে। আগামী ১৩ থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকায় বাফুফে ভবনে আবাসিক ক্যাম্পে অংশ নেবে তারা। জাতীয় নারী ফুটবল দলের প্রধান কোচ পিটার জেমস বাটলারের অধীনে চলবে এই ক্যাম্প।

প্রতিভা অন্বেষণ কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ কোচ বাটলার। সিলেটে প্রতিভাবান কয়েকজন ফুটবলার খুঁজে পাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের আতিথেয়তারও প্রশংসা করেছেন তিনি। বাটলার বলেন, ‘এটি সত্যিই ইতিবাচক ছিল। আমরা বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান তরুণীকে খুঁজে পেয়েছি। সিলেটের মানুষও আমাদের প্রতি দারুণ আতিথেয়তা দেখিয়েছেন।’ নির্বাচিত খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের জন্য নির্দিষ্টভাবে কয়েকজনকে বাছাই করা হয়েছে। জাতীয় দলের উন্নয়নধারায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

চ্যাম্পিয়নদের পুরস্কৃত করেন জাতীয় দলের হেড কোচ পিটার বাটলার

তবে প্রতিভা খোঁজার কাজটি সহজ ছিল না। প্রচন্ড গরমের মধ্যে মাঠে খেলোয়াড়দের পর্যবেক্ষণ করতে হয়েছে কোচ ও নির্বাচকদের। বাটলারের কথায়, তৃণমূল পর্যায়ে সরাসরি খেলোয়াড় বাছাই করার প্রক্রিয়া অনলাইনে পণ্য কেনার মতো সহজ নয়, ‘গরমের মধ্যে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে খেলোয়াড় বাছাইয়ের প্রক্রিয়াটা অনলাইন শপিংয়ের মতো নয়, যেখানে অ্যামাজন বা আইকেইএ থেকে পণ্য বেছে নেওয়া যায়। কাজটি সহজ নয়। তবে এ জন্য আমার নির্দিষ্ট কর্মসূচি রয়েছে।’ 

প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সব খেলোয়াড়ের মান সমান ছিল না বলেও স্বীকার করেছেন জাতীয় দলের প্রধান কোচ। তাঁর মতে, কেউ ভালো করেছে, কেউ ছিল গড়পড়তা। তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিভা অন্বেষণের ক্ষেত্রে এমন অভিজ্ঞতা স্বাভাবিক। সব খেলোয়াড়ের মধ্য থেকে সম্ভাবনাময়দের খুঁজে বের করাই এ ধরনের আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাটলার। তাঁর মতে, প্রতি ছয় মাস অন্তর প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি আয়োজন করা গেলে নারী ফুটবলের পাইপলাইন আরও সমৃদ্ধ হবে। তবে এর ধারাবাহিকতা নির্ভর করবে অর্থায়ন এবং কোন বয়সভিত্তিক দলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, তার ওপর।