মনোহরদীতে সতিনকে ফাঁসাতে আড়াই বছরের শিশুকে হত্যা

সতিনকে ফাঁসাতে নিজের শিশু সন্তানকে পানিতে ডুবিয়ে শ্বাসরোধ হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক মায়ের বিরুদ্ধে। এমন দুর্ধর্ষ ঘটনা ঘটেছে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে। ঘটনার পর, তদন্ত চলাকালীন হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া ওই শিশুর মায়ের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে এমন তথ্য উঠে এসেছে। আজ রবিবার (১১ অক্টোবর) রাত ৮ টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. আশিকুর রহমান। এর আগে, গত ৮ অক্টোবর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া আড়াই বছরের ওই শিশুর নাম তানজিমা আক্তার। সে খিদিরপুর ইউনিয়নের  নয়াপাড়ার নাজমুল ইসলামের কন্যাশিশু। অপরদিকে, অভিযুক্ত মায়ের নাম রহিমা ওরফে টুনি (২৩)। সে একই উপজেলার খিদিরপুরের নুরুল আমিনের মেয়ে এবং নাজমুলের দ্বিতীয় স্ত্রী।

পুলিশের দেয়া তথ্য এবং আসামির জবানবন্দী বলছে, ঘটনার আগে প্রায় ১০- ১৫ দিন যাবৎ রহিমা তার স্বামী নাজমুল এবং সতিন হনুফা একসঙ্গে বসবাস করে আসছিল। এ সময় তার মেয়ে তানজিমা তার নানীর বাড়ি চরমান্দালিয়ায় ছিল।

ঘটনার আগের দিন, অর্থাৎ ৭ অক্টোবর রাতে রহিমার সঙ্গে তার সতিন হনুফার পারিবারিক কলহ বাঁধে। পরদিন রহিমা তার মেয়ে তানজিমাকে নানীর বাড়ি থেকে নিয়ে আসে। এরপর তার সতিন হনুফাকে ফাঁসানোর জন্য ৮ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) বিকাল সাড়ে চারটার দিকে স্থানীয় এক পুকুরে তানজিমাকে ডুবিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। হত্যার পরে তানজিমার মরদেহ তার স্বামীর বসত ঘরের চৌকিতে গিলাফ দিয়ে ঢেকে রেখে ঘরের বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে সে পালিয়ে যায়। টুনির সতিন হনুফাকে ফাঁসানোর জন্যই এ ঘটনা ঘটানো হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করে আসামি।

ঘটনার পরে, স্থানীয় লোকজনের দেয়া সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ওই দিন রাতেই শিশু তানজিমার মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ১০ অক্টোবর (শনিবার) শিশুর দাদী ফিরোজা বেগম (৭৫) বাদী হয়ে মনোহরদী থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) ওবায়দুর রহমান এবং মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা জানান, মামলার বিবাদী রহিমা ওরফে টুনিকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তানজিমাকে পানিতে ডুবিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. আশিকুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মুঠোফোনে বলেন, ‘গত পরশুদিন (৯ অক্টোবর) আসামিকে গ্রেপ্তারের পর গতকাল সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।’