ধাক্কাধাক্কি, লাল কার্ড, তারপর ১০ জনের দলে পরিনত হওয়া লিভারপুলের ওপর ছড়ি ঘোরালো ম্যানচেস্টার সিটি। ১৩ মিনিটে ৩ গোল দিয়ে জয়যাত্রা অব্যাহত রাখলো সিটিজেনরা।
উত্তপ্ত আবহ ও প্রথমার্ধের খেলা
আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের দায়ে ম্যানচেস্টার সিটি দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর এটিই ছিল তাদের প্রথম ম্যাচ। লিভারপুলের সমর্থকরা "a generation of supporters cheated" সংবলিত ব্যানার উড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে, ফলে শুরু থেকেই মাঠের পরিবেশ ছিল বেশ বৈরী। অ্যান্ডোনি ইরাওলার পরিচালনায় থাকা লিভারপুল ম্যাচটি জয়ের জন্য আক্রমণাত্মক সূচনা করতে চেয়েছিল।
প্রথমার্ধের শুরুর দিকে দুটি দলেরই গোলের সুযোগ পেতে বেশ বেগ পেতে হয়। লিভারপুলের অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার একটি ওভারহেড কিকে গোল করার চেষ্টা করেন, অন্যদিকে ভিক্টর মুনিজের দূরপাল্লার শট দারুণভাবে রক্ষা করেন সিটি গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। ম্যানচেস্টার সিটির আক্রমণভাগে শুরুর দিকে কিছুটা মন্দাভাব লক্ষ্য করা যায়। এনজো ফার্নান্দেসের শট অ্যালিসন সহজে গ্লাভসে বন্দী করেন এবং রায়ান চেরকির শট গোলপোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়।
ম্যাচের মোড় ঘোরানো লাল কার্ড
দ্বিতমার্ধের শুরুতেই লিভারপুল আক্রমণাত্মক খেলা শুরু করে এবং প্রথম ৫ মিনিটের মধ্যেই তিনটি ভালো সুযোগ তৈরি করে। লিউইস কউমাস ও রায়ান গ্রাভেনবার্চের দারুণ দুটি শট ফেরাতে বাধ্য হন দোন্নারুম্মা, অন্যদিকে ম্যাক অ্যালিস্টারের শট পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। অন্যপ্রান্তে সিটির হয়ে আর্লিং হালান্ডও আন্তোইন সেমেনিওর পাস থেকে একটি সহজ সুযোগ মিস করেন।
তবে খেলার ৬০তম মিনিটের দিকে বড় ধাক্কা খায় লিভারপুল। জেরেমি ডোকুর সাথে সংঘর্ষের পর মিডফিল্ডার রায়ান গ্রাভেনবার্চকে বিতর্কিত দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) দেখিয়ে মাঠ ছাড়তে বলা হয়। লিভারপুল ১০ জনের দলে পরিণত হতেই ম্যাচের ভাগ্য সিটির দিকে হেলে পড়ে।
১৩ মিনিটে সিটির ৩ গোল
লাল কার্ডের পর পর মাত্র ১৩ মিনিটের ঝড়ে ম্যাচ সম্পূর্ণ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় ম্যানচেস্টার সিটি।
প্রথম গোল: ডোকুর একটি ডিফ্লেক্টেড ক্রস থেকে সুযোগ কাজে লাগিয়ে আর্লিং হালান্ড ম্যানচেস্টার সিটিকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
দ্বিতীয় গোল: এর মাত্র ৬ মিনিটের মাথায় জেরেমি ডোকু বাম দিক থেকে কাট-ইন করে এক চমৎকার দূরপাল্লার শটে বল টপ কর্নারে পাঠিয়ে ব্যবধান ২-০ করেন।
তৃতীয় গোল: ৭৮তম মিনিটে এলিওট অ্যান্ডারসন ও জস্কো গভার্দিওলের চমৎকার কম্বিনেশন থেকে আসা পাস ধরে ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান ৩-০ করেন রায়ান চেরকি।
৭৮ মিনিটের মধ্যেই ৩-০ গোলের বড় জয় নিশ্চিত করে ফেলে এনজো মারেস্কার দল। এর মাধ্যমে লিভারপুলের ম্যানেজার হিসেবে অ্যান্ডোনি ইরাওলা তাঁর প্রথম হারের স্বাদ পেলেন। একইসাথে চলতি শতাব্দীতে মাত্র তৃতীয়বারের মতো লিভারপুল ঘরের মাঠে মৌসুমের প্রথম তিনটি লিগ ম্যাচের একটিতেও জয় পেতে ব্যর্থ হলো।