সমতাভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে: ইউজিসি সদস্য ড. মামুন

দেশের সব শিক্ষার্থীর জন্য সমতাভিত্তিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীরা যে কারিকুলামেই অধ্যয়ন করুক না কেন, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের সুযোগ সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। এতে শিক্ষার সমান সুযোগ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

রবিবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘বিদেশি কারিকুলাম অধ্যয়নকারী শিক্ষার্থীদের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে ভর্তির সুযোগ সম্প্রসারণ’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। অ্যালায়েন্স অব প্রাইভেট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলস আয়োজিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত, গিয়াস উদ্দিন রিমন।

অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে সব ধারার শিক্ষার্থীর জন্য উচ্চশিক্ষার পথ উন্মুক্ত রাখতে হবে। শিক্ষার্থীদের কারিকুলামভিত্তিক পার্থক্য যেন তাদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সীমিত না করে, সে বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভর্তি প্রক্রিয়ায় মেধা, যোগ্যতা ও ন্যায্যতার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে উদ্ভাবন ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষার বিকাশে ইনোভেশন হাব প্রতিষ্ঠার মতো উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ইনোভেশন হাব গড়ে তোলা হলে শিক্ষার্থীরা নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করা, গবেষণার ফল বাস্তবে প্রয়োগ করা এবং উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার সুযোগ পাবে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংযোগ জোরদার এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথও সুগম হতে পারে।

দেশের মেধাবী তরুণদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি ‘ব্রেইন সার্কুলেশন’ ধারণার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, দেশের শিক্ষার্থী, গবেষক ও পেশাজীবীরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করবেন এবং সেই অভিজ্ঞতা দেশের গবেষণা, উদ্ভাবন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগাবেন—এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে। বিদেশে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর সুযোগ বাড়ানো গেলে বাংলাদেশও বৈশ্বিক জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনী উদ্যোগে অর্থায়নের লক্ষ্যে ৫০০ কোটি টাকার Startup Fund গঠন করা হয়েছে। এই তহবিলের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় উদ্যোগকে সহায়তা দেওয়া, তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের কারিকুলামভিত্তিক পরিচয় যেন তাদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণের পথে বাধা না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সেমিনারে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবিদ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যবৃন্দ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও অন্যান্য অংশীজন উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় বিদেশি কারিকুলামে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ, বিদ্যমান ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ এবং উচ্চশিক্ষায় সমতা ও অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।