তাজমিন হত্যায় কথিত প্রেমিক রাজু আটক

কুমিল্লার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৪) ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় তার কথিত প্রেমিক রিয়াজ উদ্দিন রাজুকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল রবিবার রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে তাজমিনকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন (৩৫) সম্পর্কে বেরিয়ে আসছে নানা তথ্য। সংসারে তার রয়েছে তাজমিনের সমান বয়সী কন্যাসন্তান। কিন্তু মাদকাসক্তি ও পারিবারিক কলহের কারণে তার সংসার ভেঙে যাওয়ার উপক্রম। ঘরজামাই হিসেবে থাকলেও সেখান থেকে মাসখানেক আগে বেরিয়ে এসেছেন। অন্যদিকে তাজমিন হত্যার শিকার হওয়ার আগে কক্সবাজার যাওয়ার যে তথ্য বেরিয়েছিল, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। বিয়ের পর ঘরজামাই হিসেবে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা ইউনিয়নের জয়ানগর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। বর্তমানে তিনি দুই সন্তানের জনক। সুমনের ভায়রা যুবায়ের জানান, সুমনের ১৫ বছর বয়সী ছেলে ও ১৪ বছর বয়সী মেয়ে রয়েছে।

সুমন দীর্ঘদিন ধরে গাঁজা ও ইয়াবায় আসক্ত ছিলেন। সেখানে বসতঘরের আসবাবপত্রসহ একে একে বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করে দেন। তা অতিমাত্রায় বেড়ে গেলে একপর্যায়ে স্ত্রীর বড় ভাই থানায় লিখিত অভিযোগও দিয়েছিলেন। প্রায় ছয় বছর ধরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন সুমন।

মাদকাসক্তি ও নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে আলাদা থাকতেন স্ত্রী জেসমিন। পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রায় এক মাস আগে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে যান সুমন। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, তাজমিনকে হত্যার দিনও নেশাগ্রস্ত ছিলেন সুমন।

এর আগে বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছে বলে তাজমিন বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। কিন্তু বান্ধবীর নাম কিংবা তার মা-বাবার পরিচয় কিছুই জানায়নি। বাড়ি থেকে বের হয়ে সে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়। সেখান থেকে যায় কক্সবাজার। কক্সবাজারের একটি সিসিটিভির ফুটেজ দেখে তাজমিনের কক্সবাজার যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। সূত্র জানায়, ৬ অক্টোবর কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি রোডের শেষ মাথায় মেঘলা রিসোর্ট নামে একটি আবাসিক হোটেলে সে এক রাত অবস্থান করে। পর দিন ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে হোটেল ছেড়ে যায়।

ফেসবুকের মাধ্যমে রাজুর সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রে তাজমিন কক্সবাজার গিয়েছিল বলে জানা গেছে। হোটেলের খাতায় রাজুর পরিচয় লেখা হয় বান্দরবানের লামা এলাকার মনির আহমদের ছেলে। নিবন্ধন খাতায় তার দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর লেখা রয়েছে।

কক্সবাজারের কক্সেস প্যানোরামিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর এজেন্সির আবদুল্লাহ জানান, ৬ অক্টোবর রাত ৮টার পর তাজমিন ও রাজু তাদের কাউন্টারে গিয়ে বাসের টিকিট কাটেন। পর দিনের জন্য আইকনিক এক্সপ্রেসের একটি টিকিট বুক করেন রাজু। সংবাদমাধ্যমে দেওয়া রাজুর ভাষ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি তাজমিনকে বাসে তুলে দেন।

পুলিশের ভাষ্য, কক্সবাজার থেকে ৭ অক্টোবর রাত পৌনে ১২টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডে বাস থেকে নামে তাজমিন। তাকে ৩০০ টাকা ভাড়ায় বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে অটোরিকশায় তুলে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ ও পরে শ্বাসরোধে হত্যা করেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন। পর দিন সকালে একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনাটির তদন্তে নেমে পুলিশ সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের আইফোন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সুমনকে একমাত্র আসামি করে মামলা হয়েছে। শনিবার রাতে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন সুমন।

লালমাই থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, মুঠোফোনের কললিস্টসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার বাকি বিষয়গুলো জানা যাবে।