গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর উত্তরায় মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। গতকাল রবিবার অভিযোগ গঠন করে আগামী ৪ নভেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণ শুরুর দিন ধার্য করেছে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত ট্রাইব্যুনাল। এর মাধ্যমে দুই বছর আগে গণঅভ্যুত্থানে
শহীদ মুগ্ধ হত্যা মামলার বিচারকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের পক্ষে-বিপক্ষে উভয়পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষ হয়।
এ মামলায় ২৬ আসামির মধ্যে ৮ জন কারাগারে আছেন। তারা হলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মির্জা সালাহউদ্দিন, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) মো. মজিবুর রহমান, উত্তরা আজমপুর পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক কনস্টেবল মো. হোসেন আলী, উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোয়ার ইসলাম চৌধুরী রবিন, উত্তরা থানা যুবলীগ নেতা মো. দেলোয়ার হোসেন রুবেল, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. সোহেল রানা, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি মো. শাহ আলম এবং তুরাগ থানা এলাকার আওয়ামী লীগ কর্মী মো. ইরফানুল হক গাজী। গতকাল এই আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ১৮ আসামি এখনো পলাতক।
আসামিদের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগের প্রথমটিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরে গণঅভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে সহযোগিতার পাশাপাশি আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে পানি ও বিস্কুট বিতরণ করছিলেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ। সে সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। সতীর্থ আন্দোলনকারীরা তাকে উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। একই দিন আন্দোলন চলাকালে উত্তরা এলাকায় আরও ৬ জনকে হত্যা করা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই উত্তরা এলাকায় রিদোয়ান শরীফ, মো. ছাব্বির ইসলাম, মো. আসাদুল্লাহ ও নাঈমা সুলতানাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।