চীনা ঐতিহ্যে আরবি ক্যালিগ্রাফি

ভাষা ও সংস্কৃতি আলাদা হলেও শিল্প মানুষকে কাছাকাছি আনতে পারে। চীনা ঐতিহ্য এবং আরবি ক্যালিগ্রাফির সমন্বয়ে সেই বার্তাই তুলে ধরছেন ক্যালিগ্রাফি শিল্পী হাজি নুরুল দ্বীন। তার কাছে আরবি লিপিচর্চা মানে পবিত্র কোরআনের সেবা এবং ইসলামি শিল্পকলার সৌন্দর্য তুলে ধরার অন্যতম মাধ্যম। 

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিমের নান্দনিক ক্যালিগ্রাফি। ছবি : হাজি নুর দ্বীন ডটকম

সম্প্রতি আরব আমিরাতের শারজাহ ক্যালিগ্রাফি বিয়েনালে অংশ নিয়ে তিনি আরবি লিপির শৈল্পিক সৌন্দর্য, আধ্যাত্মিক তাৎপর্য এবং বিভিন্ন সংস্কৃতির শিল্পীদের আকৃষ্ট করার ক্ষমতার কথা তুলে ধরেন কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে।

সুরা ফাতেহা আরবি ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে সুন্দরভাবে লেখা হয়েছে। শুরু হয়েছে নিচের দিক থেকে। প্রথমে বিসমিল্লাহ। এরপর সুরা ফাতেহা। ছবি : হাজি নুর দ্বীন ডটকম

হাজি নুরুল দ্বীনের শিল্পচর্চায় চীনা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও আরবি ক্যালিগ্রাফির নান্দনিকতার সমন্বয় ঘটেছে। কোরআনের সেবা করা এবং আরবি লিপির মর্যাদা তুলে ধরার লক্ষ্যেই তিনি এই দুই ধারার সমন্বয়ে নিজস্ব শিল্পরীতি গড়ে তুলেছেন।

আইকিউএনএ-এর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, আরবি ক্যালিগ্রাফির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা এমন একটি শিল্পধারা তৈরি করেছে, যেখানে চীনা সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে আরব ও ইসলামি শিল্পের ঐতিহ্যের মেলবন্ধন ঘটেছে।

মসজিদের গম্বুজের আকৃতিতে চমৎকার আরবি ক্যালিগ্রাফি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, এর কেন্দ্রস্থলে কলেমা তইয়্যিবা লেখা রয়েছে। ছবি: হাজি নুর দ্বীন ডটকম

নিজস্ব দক্ষতা ও শৈল্পিক জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তিনি আরবি ক্যালিগ্রাফির আবহে বিভিন্ন শিল্পকর্ম তৈরি করছেন। একই সঙ্গে তার কাজের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যও অক্ষুণ্ণ থাকছে। দুটি ভিন্ন সংস্কৃতির সংমিশ্রণই তার শিল্পকর্মকে বিশেষ পরিচিতি দিয়েছে।

তা মতে, আরবি ক্যালিগ্রাফি হলো আধ্যাত্মিক ও নান্দনিক তাৎপর্যপূর্ণ একটি দৃশ্যশিল্প। বিশেষ করে পবিত্র কোরআন লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে এই শিল্পের গুরুত্ব অনন্য। কোরআনের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের কারণে ইসলামি সভ্যতায় আরবি ক্যালিগ্রাফি বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে। এর সৌন্দর্য ও তাৎপর্য বিভিন্ন সংস্কৃতির শিল্পীদেরও আকৃষ্ট করেছে। তারা নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও শৈলী দিয়ে এই শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করছেন।

আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ছবি: হাজি নুর দ্বীন ডটকম

শারজাহ ক্যালিগ্রাফি বিয়েনাল ৭ অক্টোবর শুরু হয়েছে। চলবে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্যালিগ্রাফার ও শিল্পীরা অংশ নিচ্ছেন। আরবি ক্যালিগ্রাফির বিভিন্ন শৈলী ও শিল্পধারা তুলে ধরার পাশাপাশি দৃশ্যশিল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানো এই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।