কঠিন হৃদয়কে কোমল করার সাত উপায়

মানুষের হৃদয়ের অবস্থা ও অনুভূতির পরির্তন ঘটে প্রতিনিয়ত। হৃদয় কখনো কোমল থাকে, কখনো থাকে কঠিন। সাধারণত দেখা যায় পাপ, দুনিয়ার প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি এবং মৃত্যুর কথা ভুলে থাকার কারণে হৃদয়ে কঠোরতা তৈরি হয়। 

ফলে মানুষ অন্যের কষ্টে বিচলিত হয় না, উপদেশ শুনেও নিজেকে সংশোধন করে না। অথচ পরকালে মুক্তির জন্য প্রয়োজন নির্মল ও সুস্থ হৃদয়। তাই হৃদয়ের যত্ন নেওয়া এবং একে কোমল রাখার চেষ্টা করা প্রত্যেক মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। হৃদয় কোমল রাখার সাতটি উপায় তুলে ধরা হলো।

মৃত্যুর কথা স্মরণ করা

মৃত্যুর কথা স্মরণ করলে হৃদয় কোমল হয়। মৃত্যুর স্মরণ মানুষকে পাপ থেকে দূরে থাকতে এবং আখেরাতের প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা স্বাদ বিনষ্টকারী বিষয়টি বেশি বেশি স্মরণ করো।’ অর্থাৎ মৃত্যু। (জামে তিরমিজি)

কবর জিয়ারত করা

কবর জিয়ারত মানুষের মনে মৃত্যুর কথা জাগিয়ে তোলে। এতে হৃদয় নরম হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি তোমাদের কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম। এখন তোমরা কবর জিয়ারত করো। কারণ, তা মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।’ (সহিহ মুসলিম)

অসুস্থ ও মুমূর্ষু ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া

অসুস্থ ও মৃত্যুপথযাত্রী ব্যক্তিকে দেখতে গেলে জীবনের বাস্তবতা উপলব্ধি করা যায়। মানুষের শক্তি, সম্পদ ও ক্ষমতা যে চিরস্থায়ী নয়, তা মনে পড়ে। এসব অভিজ্ঞতা হৃদয়কে কোমল করে এবং মানুষের প্রতি সহানুভূতি বাড়ায়।

তওবা করা

পাপ মানুষের হৃদয়ে কঠোরতা সৃষ্টি করে। তাই ভুল হলে দ্রুত তওবা করা জরুরি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বান্দা যখন কোনো পাপ করে, তখন তার হৃদয়ে একটি কালো দাগ পড়ে। এরপর সে যদি পাপ থেকে বিরত হয়, ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং তওবা করে, তবে তার হৃদয় পরিষ্কার করে দেওয়া হয়।’ (জামে তিরমিজি)

কোরআন নিয়ে চিন্তাভাবনা করা

কোরআন তেলাওয়াত, এর অর্থ বোঝা এবং আয়াত নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করলে হৃদয় কোমল হয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি যদি এই কোরআন পাহাড়ের ওপর অবতীর্ণ করতাম, তবে তুমি দেখতে যে, আল্লাহর ভয়ে তা বিনীত হয়ে বিদীর্ণ হয়ে গেছে।’ (সুরা হাশর ২১)

সৃষ্টিজগৎ নিয়ে চিন্তা করা

আকাশ, পৃথিবী, পাহাড়, সমুদ্র ও প্রাণিজগতের দিকে গভীরভাবে তাকালে আল্লাহর অসীম ক্ষমতার পরিচয় পাওয়া যায়। সৃষ্টিজগতের নিদর্শন নিয়ে চিন্তা করলে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস গভীর হয় এবং হৃদয়ে বিনয় তৈরি হয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তারা কি উটের দিকে তাকায় না, কীভাবে তা সৃষ্টি করা হয়েছে? আর আকাশের দিকে, কীভাবে তা উঁচু করা হয়েছে? আর পাহাড়ের দিকে, কীভাবে তা স্থাপন করা হয়েছে? আর পৃথিবীর দিকে, কীভাবে তা বিস্তৃত করা হয়েছে?’ (সুরা গাশিয়াহ ১৭-২০)

দোয়া, জিকির ও নামাজে মনোযোগী হওয়া

আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করার অন্যতম উপায় হলো দোয়া, জিকির ও নামাজ। নিয়মিত আল্লাহকে স্মরণ করলে হৃদয়ে প্রশান্তি আসে। নিজের দুর্বলতা ও প্রয়োজনের কথা তার কাছে তুলে ধরলে অন্তরে বিনয় তৈরি হয়। তবে দীর্ঘদিন ইবাদতে অবহেলা থাকলে এই প্রশান্তি অনুভব করতে সময় লাগতে পারে। তাই হতাশ না হয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে হবে।

হৃদয়ের কঠোরতা এক দিনে দূর হয় না। নিয়মিত আত্মসমালোচনা, তওবা, কোরআনচর্চা ও ইবাদতের মাধ্যমে হৃদয়কে কোমল রাখার চেষ্টা করতে হয়। আল্লাহর কাছে সুস্থ ও নির্মল হৃদয় কামনা করার পাশাপাশি নিজের আচরণেও এর প্রতিফলন ঘটাতে হবে।