এক সেঞ্চুরির দিনে আক্ষেপ অনেকের

জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) দ্বিতীয় রাউন্ডের তৃতীয় দিনে গতকাল সেঞ্চুরি হয়েছে একটি। তবে শতকের খুব কাছে গিয়েও আক্ষেপ নিয়ে ফিরেছেন একাধিক ব্যাটার। কেউ থেমেছেন ৯০ রানে, কেউ ৮৯ আবার কেউ ৮৮ রানে। সব মিলিয়ে চারজন ব্যাটসম্যান আশি-ঊর্ধ্ব রানের ইনিংস খেলে আউট হন। ৭০ রানের গণ্ডি পার করেন আরও দুজন। অন্যদিকে দলীয় সমীকরণেও তৈরি হয়েছে রোমাঞ্চ। চট্টগ্রাম ও রংপুর জয়ের পথে, রাজশাহী ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে আর ঢাকার বিপক্ষে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে সিলেট। এদিন ঢাকা তাদের ১১ জন বোলারকে দিয়েই বল করিয়েছে। 

কক্সবাজারে বরিশাল বিভাগের বিপক্ষে চট্টগ্রাম বিভাগীয় দলের হয়ে প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহ গড়ার পথে গতকাল সেঞ্চুরি করেছেন ইরফান শুক্কুর। আগের দিন সাদিকুর রহমান ও শাহাদাত হোসেন দিপুর শতকের পর তৃতীয় দিনে অধিনায়কের ব্যাটেও এসেছে তিন অঙ্কের ইনিংস। ৪ উইকেটে ৪৭৯ রান নিয়ে দিন শুরু করা চট্টগ্রাম প্রথম ঘণ্টায় হারায় দিপুকে। মঈন খানের বলে স্টাম্পিংয়ের শিকার হওয়ার আগে ১৫৭ বলে ১০৯ রান করেন তিনি। এরপর দ্রুতই ফিরে যান ইরফান। রুয়েল মিয়ার বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে ওয়ানডে গতিতে খেলে নিজের প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন শুক্কুর। এতে ৫৭৬ রান করে চট্টগ্রাম। বরিশালের হয়ে অভি আহমেদ নোবেল নেন ৪ উইকেট।

এরপর দ্বিতীয় ইনিংস ব্যাটিংয়ে নেমে দুই ওপেনার জাওয়াদ আবরার ও ইফতেখার ইফতির ৯৪ রানের জুটিতে ভালো শুরু পায় বরিশাল। জাওয়াদ ৪১ রান করে ফিরলেও ইফতি খেলেন ৭৪ রানের ইনিংস। তবে দিনের শেষ ভাগে দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি। ৪ উইকেটে ১৪৯ রান নিয়ে দিন শেষ করা বরিশালকে ইনিংস হার এড়াতে শেষ দিনে করতে হবে আরও ১৪৫ রান।

অন্যদিকে সিলেটে প্রথম ইনিংসে ১২৭ রানের লিড পাওয়া রংপুর দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ১৯৫ রান তুলে ময়মনসিংহের বিপক্ষে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। অধিনায়ক আকবর আলীর ৯৭ বলে ৭৪ রানের ইনিংস দলকে এগিয়ে নেয়। প্রথম ইনিংসে ২৯৫ রানে অলআউট হওয়া ময়মনসিংহের হয়ে আবু হায়দার রনি করেন ৫২ রান। রংপুরের লিড এখন ৩২২ রান।

পাশের মাঠে ঢাকা ও সিলেটের ম্যাচেও শতকের অপেক্ষা দীর্ঘ হয়েছে। ঢাকার ৫৪৭ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করার পর সিলেট ৫ উইকেটে ৪৩১ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শেষ করেছে। সৈকত আলী ৬০ ও আসাদুল্লাহ হিল গালিব ৮৯ রান করে আউট হন। আশরাফুল হাসান ৮১ এবং তোফায়েল আহমেদ ৫৬ রান নিয়ে আজ চতুর্থ ও শেষ দিনে ব্যাটিংয়ে নামবেন। সিলেট এখনো পিছিয়ে ১১৬ রানে। ব্যাটসম্যানদের দাপটের দিনে বল হাতে দেখা গেছে ঢাকার ১১ ক্রিকেটারকেই। এমনকি উইকেটের পেছনে গ্লাভস ছেড়ে এক ওভার বোলিং করেছেন অধিনায়ক মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনও। প্রথম শ্রেণি, লিস্ট  ‘এ’ ও স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে ২৬৩ ম্যাচের ক্যারিয়ারে এই প্রথম বল করলেন তিনি। দেশের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এক ইনিংসে ১১ বোলার ব্যবহারের সপ্তম ঘটনা এটি।

এদিকে মিরপুরে খুলনা ও রাজশাহীর ম্যাচেও শতকের আক্ষেপ বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। প্রথম ইনিংসে ৪৮৪ রান করা খুলনার বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়িয়েছে রাজশাহী। প্রথম ইনিংসে ১১৯ রানে গুটিয়ে যাওয়া দলটি এবার ব্যাট হাতে লড়াইয়ে ফিরেছে। ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহান ৯০ এবং সাব্বির হোসেন ৮৮ রান করেন। দুজনের সামনেই সেঞ্চুরি করার ভালো সুযোগ ছিল। পরে নাঈম আহমেদের ৬৯ রানের সৌজন্যে ৩ উইকেটে ৩০০ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শেষ করেছে রাজশাহী। এখনো তারা পিছিয়ে ৬৫ রানে।