নেদারল্যান্ডসে ওয়ার্ল্ড মাস্টার্স হকি বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া বাংলাদেশের দুই খেলোয়াড় বাচ্চু গাজী ও অনিক ইসলাম দেশে ফেরেননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হকি ফেডারেশনের এক কর্মকর্তার দাবি, এ ঘটনার প্রভাব পড়েছে ইউরোপের দূতাবাসগুলোর ভিসা প্রক্রিয়ায়। যদিও এ বিষয়ে ভিন্নমতও রয়েছে।
আর এই কারণে জার্মানির ভিসা পাননি জাতীয় হকি দলের খেলোয়াড়রা। এ বিষয়ে ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক আরিফুল হক প্রিন্স অভিযোগ করেন, নেদারল্যান্ডসের রটারডামে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড মাস্টার্স হকি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-৫০ দলের দুই খেলোয়াড় দেশে ফেরেননি। তার দাবি, এ ঘটনার পর ইউরোপের দূতাবাসগুলো সতর্ক হয়েছে এবং বিষয়টি ফেডারেশনের নজরেও এসেছে। প্রিন্সের কথা, ‘গত জুলাই মাসে ওয়ার্ল্ড মাস্টার্স টুর্নামেন্টে খেলতে ১৮ জন বাংলাদেশি গিয়েছিলেন। এর মধ্যে ঢাকা থেকে ১০ জন। বাকি আটজন ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা। তবে সবাই ফিরলেও বাচ্চু গাজী ও অনিক ইসলাম ফেরেননি।’ তিনি যোগ করেন, ‘এ নিয়ে আমরা খুবই সমস্যায় পড়েছি। জার্মানির ভিসা পাইনি। এমনকি ইউরোপীয় ইউনিয়ন কোনো খেলোয়াড়কেই ভিসা দিচ্ছে না। তাই কঠিন সমস্যায় পড়েছি।’ তবে ওই দুই খেলোয়াড়ের বিষয়ে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ও জানতে চেয়েছে। কারণ, তারা সরকারি আদেশ নিয়ে বিদেশে গিয়েছিলেন। জার্মানির ভিসা জটিলতা নিরসনে পিটার ১৫ অক্টোবর দূতাবাসের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।
প্রিন্স আরও দাবি করেন, নেদারল্যান্ডসে দল পাঠানো নিয়ে আগের অ্যাডহক কমিটির সময়ে আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। বাচ্চু গাজী ও অনিক ইসলাম দেশে ফেরেননি। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে শোকজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তার মতে, এ ঘটনায় ফেডারেশনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জাতীয় দলের বিদেশ সফরেও জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে ভেটেরান হকি খেলোয়াড়দের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক খাজা লতিফ মুন্না এ বিষয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। তার দাবি, বাচ্চু গাজীর আগে থেকেই ইংল্যান্ডের ভিসা ছিল এবং তিনি নেদারল্যান্ডস থেকে সেখানে গেছেন। অনিক ইসলামের বিষয়ে তার কাছে তথ্য নেই। বিদেশ যাওয়ার জন্য অর্থ লেনদেন হয়েছে কি না, সেটিও তিনি জানেন না।