জয়ের জন্য চাই সাত উইকেট

আবুধাবিতে গতকাল ছিল লিটন দাসের দুঃখ ভোলার দিন। ব্যাট হাতে সময়টা ভালো যাচ্ছিল না তার। অস্ট্রেলিয়ায় টানা তিন ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়ার পর সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হতে হয় তাকে। সর্বশেষ জাপানে এশিয়ান গেমস খেলতে গিয়ে সেখানেও ব্যাটে রান পাননি লিটন। এক ইনিংসে শূন্য এবং আরেক ইনিংসে ২ রানে আউট হন। এরপর তার নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এসব নেতিবাচক আলোচনার জবাব দেওয়ার জন্য ব্যাট এবং গ্লাভস জোড়াকেই নিজের অস্ত্র বানিয়েছেন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রথম ইনিংসে ফিফটি করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন লিটন। তার মতো স্বস্তিতে আছে বাংলাদেশ দলও। ৪৮০ রানের লক্ষ্য দিয়ে চতুর্থ দিন শেষে প্রতিপক্ষের ১৩২ রানে ৩ উইকেট তুলে নিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আজ পঞ্চম ও শেষ দিনে জয়ের জন্য ৭ উইকেট দরকার সফরকারীদের। আফগানিস্তানের প্রয়োজন ৩৪৭ রান। খুব নাটকীয় কিছু না ঘটলে নাজমুল হোসেন শান্তদের জয় সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

চতুর্থ দিন সকালে ৬ উইকেটে ২২৩ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে বাংলাদেশ। সেখান থেকে মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেন লিটন। সপ্তম উইকেটে দুজন যোগ করেন ১৪৯ রান। ১১৫ বলে ১৪টি চারে ১০২ রান করেন লিটন। এটি তার টেস্ট ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি। উইকেটরক্ষক হিসেবে টেস্টে তার ষষ্ঠ শতক, বাংলাদেশের হয়ে যা মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। অন্য প্রান্তে মিরাজ ৯৭ বলে ৫টি চারে ৫২ রান করে অপরাজিত থাকেন। তাদের জুটির ওপর ভর করে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। এতে আফগানদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪২২ রানের।

তবে সেঞ্চুরির পথে কয়েকবার জীবন পান লিটন। ব্যক্তিগত ১৪ ও ২৬ রানে ক্যাচ দিয়েও রক্ষা পান তিনি। পরে রানআউটের সুযোগও হাতছাড়া করে আফগানিস্তান। সেই সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে শেষ পর্যন্ত তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছান বাংলাদেশের এই ব্যাটার। এরপর দিনের খেলা শেষে এই ভিডিও বার্তায় টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি আলাদা টান অনুভব করার কথা জানিয়ে লিটন বলেন, ‘তিনটি সংস্করণই আমার ভালো লাগে। তবে টেস্ট ক্রিকেটের মর্যাদাটা একটু বেশি। এখানে অনেক কিছু ঘটে। প্রথম দিন থেকে পঞ্চম দিন পর্যন্ত অনেক চ্যালেঞ্জ থাকে এবং উপভোগ করার মতো অনেক পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাই আমার টেস্ট ক্রিকেট ভালো লাগে।’

টেস্টের সেই চ্যালেঞ্জিং পরিবেশেই ব্যাট ও গ্লাভস হাতে নিজের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়েছেন লিটন। উইকেটরক্ষণের অভিজ্ঞতা ব্যাটিংয়ে কীভাবে কাজে আসে, সেটিও জানিয়েছেন তিনি। এ নিয়ে লিটন বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই সাহায্য করে। উইকেটের পেছনে থেকে আমি অনেক কিছু বুঝতে পারি। উইকেট সম্পর্কে একটা ধারণা চলে আসে। সেটা আমার ব্যাটিংয়ে অনেকটা সাহায্য করে।’

ব্যাট হাতে শতক হাঁকানোর পর গ্লাভস হাতে উইকেটের পেছনেও রেকর্ড গড়েন লিটন। প্রথম ইনিংসে চারটি ক্যাচ ও একটি স্টাম্পিংয়ের পর দ্বিতীয় ইনিংসে আফগানিস্তানের হারানো ৩ উইকেটের সবগুলো ক্যাচ নেন তিনি। সব মিলিয়ে ম্যাচে এখন পর্যন্ত তার ডিসমিসাল আটটি। বাংলাদেশের হয়ে এক টেস্টে এটিই সর্বোচ্চ। ২০০৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সাতটি ডিসমিসাল নিয়ে রেকর্ডটি নিজের করে রেখেছিলেন খালেদ মাসুদ। এবার তাকে ছাড়িয়ে গেলেন লিটন। একই টেস্টে দুই ইনিংসে ৫০ বা তার বেশি রান এবং অন্তত আটটি ডিসমিসালের কীর্তিও বিরল। টেস্ট ইতিহাসে এর আগে এমন কীর্তি ছিল কেবল দক্ষিণ আফ্রিকার ডেনিস লিন্ডসের।

এদিকে, চতুর্থ দিনের শেষ ভাগে বোলারদের নৈপুণ্যে জয়ের পথে আরও এগিয়েছে বাংলাদেশ। এবাদত হোসেন ইনিংসের প্রথম বলেই আবদুল মালিককে ফিরিয়ে দেন। পরে হাসান মাহমুদের বলে ১৯ রান করে আউট হন শহিদউল্লাহ। ২৮ রানে দুই উইকেট হারানোর পর রহমত শাহ ও সেদিকউল্লাহ আতাল ৮২ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধ গড়েন। এবাদতের বলে লিটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৫১ রান করে ফেরেন রহমত। দিন শেষে আতাল ৩৫ ও হাশমতউল্লাহ শহীদি ১৯ রানে অপরাজিত।

পেসাররা দাপট দেখালেও বড় জয়ের সুবাস পাওয়া বাংলাদেশ শেষ দিনে স্পিনারদের দিকে তাকিয়ে আছে বলে মন্তব্য করেন লিটন, ‘উইকেটটা খুব একটা স্পিন সহায়ক নয়। তবে পঞ্চম দিনে অনেক বল বেশি বাঁক নিতে পারে। আমাদের স্পিনাররা ভালো জায়গায় বল করছে। তারা আরও ভালো জায়গায় বল করে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করবে। উইকেট থেকে যদি কিছুটা সহায়তা পায়, তাহলে তাদের জন্য কাজটা সহজ হবে।’