চিঠি উৎসব ও স্ট্যাম্প প্রদর্শনী

বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী চিঠি উৎসব ও স্ট্যাম্প প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মেট্রোপলিটন সার্কেল। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) পায়রা চত্বরে ডাক বিভাগের সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এ উৎসবে ডাক বিভাগের ইতিহাস-ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি চিঠি লেখার সুযোগ ও ডাকটিকিট প্রদর্শনীর ব্যবস্থা রাখা হয়। এ প্রদর্শনী দেখতে ভিড় করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

সকাল ৯টায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম। এ সময় মেট্রোপলিটন সার্কেল, ঢাকার পোস্টমাস্টার জেনারেল মৌসুমী রহমান, ডাক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ নানা বয়সের মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এ বছরের বিশ্ব ডাক দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা’। ডাক বিভাগের সমৃদ্ধ ইতিহাস-ঐতিহ্য, বর্তমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠানে ডাক বিভাগের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ডাকটিকিটের প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ডাক ব্যবস্থার ঐতিহাসিক বিবর্তন, ডাকটিকিটের ঐতিহ্য এবং দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ডাক বিভাগের অবদান তুলে ধরা হয়। এ বছর ৯ থেকে ১৫ অক্টোবর ডাক বিভাগ সেবা সপ্তাহ চালু করেছে।

সরেজমিন দেখা যায়, দর্শনার্থীরা ঘুরে ঘুরে ডাক বিভাগের প্রদর্শনী দেখছেন। কেউ কেউ ডাকটিকিট কিনছেন আবার কেউ কেউ ছিলেন ছবি তোলায় ব্যস্ত। অনুষ্ঠানে চিঠি লেখার জন্য আলাদা কর্নার ছিল, যেখানে দর্শনার্থীরা তাদের আপনজনের কাছে চিঠি লিখে খামে ভরে জমা দেন। চিঠিগুলো ডাক বিভাগ থেকে গন্তব্যে পৌঁছে হবে বলে জানানো হয়।

ডাক বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ডিজিটাল যুগে ই-মেইল, সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়ায় প্রচলিত চিঠির ব্যবহার কমেছে। তবে ই-কমার্সের প্রসারে ডাক বিভাগের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনলাইন ব্যবসার পণ্য দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছে দেওয়া, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পণ্য পরিবহন, পার্সেল ও ইএমএস সেবা এবং ডিজিটালভিত্তিক সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে ডাক বিভাগ শক্তিশালী লজিস্টিকস অংশীদার হিসেবে কাজ করছে।

ডাক বিভাগের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, ডাক বিভাগ কেবল চিঠিপত্র আদান-প্রদানের মাধ্যম নয়; বরং দেশের মানুষ, প্রতিষ্ঠান আর সমাজের মধ্যে যোগাযোগের একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ও মানুষের চাহিদা অনুযায়ী ডাক বিভাগও বিভিন্ন সেবা চালু করেছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ ইএমএস, জিইপি, স্পিড পোস্ট, রেজিস্ট্রি ডাক, পার্সেল ও ই-কমার্স পণ্য পরিবহনসহ নানা ধরনের সেবা দিচ্ছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত ডাক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। সমন্বিত, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব ডাক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে মানুষের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করা সম্ভব।

রাজধানী ও দেশের বৃহত্তম নগরকেন্দ্রের মানুষের কাছে বিভিন্ন ডাকসেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে মেট্রোপলিটন সার্কেল। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক চিঠি, নথি, পার্সেল ও অন্যান্য ডাকসামগ্রী এ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।