রশীদ হায়দারের প্রয়াণ দিবস আজ

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা কথাসাহিত্যিক ও গবেষক রশীদ হায়দারের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০২০ সালের এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। উপন্যাস, গল্প, নাটক ও প্রবন্ধ রচনার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী এবং শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্বজনদের স্মৃতিকথা সংকলনের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসচর্চায় বিশেষ ভূমিকা রাখেন। তার সম্পাদিত ১৩ খ-ের ‘স্মৃতি : ১৯৭১’ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের অন্যতম উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত।

রশীদ হায়দার ১৯৪১ সালের ১৫ জুলাই পাবনার দোহারপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পুরো নাম শেখ ফয়সাল আবদুর রশীদ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন হায়দার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে ১৯৬৫ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর চিত্রালীতে সাংবাদিকতার মধ্য দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে দীর্ঘদিন বাংলা একাডেমিতে দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনের শেষ পর্যায়ে নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ছিলেন।

রশীদ হায়দারের সাহিত্যকর্মে মুক্তিযুদ্ধ, যুদ্ধকালীন মানুষের মনস্তাত্ত্বিক সংকট এবং সামাজিক বাস্তবতা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তার লেখায় যুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহের পাশাপাশি অবরুদ্ধ মানুষের আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা ও বেঁচে থাকার সংগ্রাম উঠে এসেছে।

তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাস ‘খাঁচায়’। একাত্তরের অবরুদ্ধ ঢাকার মানুষের জীবন ও মানসিক সংকটকে উপজীব্য করে রচিত এই উপন্যাসে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মানবিক দিক ফুটে উঠেছে। গল্পকার হিসেবেও তিনি পরিচিত ছিলেন। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি নাট্যাঙ্গনেও সক্রিয় ছিলেন রশীদ হায়দার। সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮৪ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১৪ সালে একুশে পদক লাভ করেন তিনি।

২০২০ সালের ১৩ অক্টোবর তিনি মারা যান। রশীদ হায়দারের মৃত্যুবার্ষিকীতে তার সাহিত্য ও গবেষণাকর্মের মূল্যায়ন শুধু একজন গুণী লেখককে স্মরণ করার বিষয় নয়; বরং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং সেই সময়ের মানুষের অভিজ্ঞতা সংরক্ষণের গুরুত্ব বহন করে।