জাল ভিসায় তিনজনকে ইতালিতে পাঠানোর ঘটনায় চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গত রবিবার রাতে চক্রের সদস্য কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) ছুফি উল্লাহ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে জাল ভিসায় তিনজনকে ইতালি পাঠানোর ঘটনায় গত ১৬ জুন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের গ্রাউন্ড অফিসার আকলাসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তখন সিআইডি বলেছিলÑ আকলাসুরের ‘যোগসাজশে’ গত ২৬ মে তিনজন ইতালিগামী বিমানের একটি ফ্লাইটে দেশ ছেড়েছিলেন। রোম বিমানবন্দরে গিয়ে তাদের মধ্যে জাল শেনজেন ভিসাসহ ধরা পড়েন মোস্তাফিজুর রহমান অনিক ও অক্ষয় চন্দ্র দাস। তাদের দুদিন হেফাজতে রেখে ২৮ মে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায় ইতালি কর্তৃপক্ষ। তবে আরেকজন কৌশলে ইমিগ্রেশন শেষ করে ইতালিতে প্রবেশ করতে পারায় তার নাম-পরিচয় বলেনি সিআইডি।
এদিকে অনিক ও অক্ষয় দেশে ফেরত আসার পর বিভিন্ন সংস্থা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে গোটা চক্রের তথ্য বেরিয়ে আসে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেন, জনপ্রতি ৩০ লাখ টাকার চুক্তিতে একটি চক্রের সহায়তায় দুজন দেশ ছেড়েছিলেন। ইতালি পৌঁছাতে অগ্রিম দিয়েছিলেন জনপ্রতি ২০ লাখ টাকা। এ ঘটনায় ৩০ মে বিমানবন্দর থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। বিমান কর্মকর্তা আকলাসুরকে গ্রেপ্তারের প্রায় চার মাস পর চক্রের আরেক সদস্যকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিল সিআইডি।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ বলেন, গ্রেপ্তার কামাল হোসেন দেশ ছাড়তে চেয়েছিলেন। বিমানবন্দরে গেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে কামাল কোন দেশে যেতে চেয়েছিলেন, সে বিষয়ে তথ্য দিতে পারেননি তিনি। গ্রেপ্তার কামাল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলেও দাবি করেছে সিআইডি।