জাতীয় দলের হয়ে সময়টা খুব একটা স্বস্তিতে কাটছে না—এমন গুঞ্জন ও বিতর্কের মাঝেই ক্লাব ফুটবলে নিজের চিরচেনা ছন্দে দ্যুতি ছড়াচ্ছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে এক চমৎকার গোল করে নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ১০০০ গোলের মাইলফলকের আরও এক ধাপ কাছাকাছি পৌঁছে গেলেন এই পর্তুগিজ সুপারস্টার।
সোমবার (১২ অক্টোবর) গভীর রাতে কিং ইউনিভার্সিটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে উজবেকিস্তানেট নেফতচি ফেরগনাকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছে আল নাসর।
আল-আওয়াল পার্কে গ্যালারিতে হাতে গোনা অল্প কিছু দর্শক খেলা শুরুর অপেক্ষায় নিজ নিজ আসনে বসে ছিলেন। দুই দলের খেলোয়াড়েরাও অপেক্ষায় ছিলেন মাঠে। পরে স্টেডিয়ামে স্পিকারে পরিস্থিতি নিরাপদ বলে ঘোষণা দেওয়ার পর শুরু হয় খেলা। সম্প্রচারকারী টিভি চ্যানেল নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগেই ম্যাচটি এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছিল।
ম্যাচের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় আল নাসর। ১৫ মিনিটে পেশির ইনজুরির কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ফরাসি তারকা কিংসলে কোমান। তার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন আইমান ইয়াহিয়া।
তবে শুরুর সেই ধাক্কা সামলে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় সৌদি ক্লাবটি। ম্যাচের ৩০ মিনিটে নাওয়াফ বুশালের বাড়ানো বল থেকে দুর্দান্ত শটে গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন ব্রাজিলীয় ফরোয়ার্ড অ্যাঞ্জেলো।
প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রোনালদো। আইমান ইয়াহিয়ার বাড়ানো নিখুঁত পাস থেকে বল জালে জড়িয়ে দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি।
এটি রোনালদোর পেশাদার ক্যারিয়ারের ৯৮১তম গোল। এর ফলে ফুটবলের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ১০০০ গোলেরমাইলফলক স্পর্শ করতে তার প্রয়োজন মাত্র ১৯টি গোল।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালায় উজবেকিস্তানের ক্লাব ফেরগনা। আলিশের ওদিলভ গোল করে ব্যবধান কমালেও ম্যাচের নিয়তি বদলাতে পারেনি তারা। খেলার নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার ১৫ মিনিট আগে আনভারজন গফুরভের আত্মঘাতী গোলে আল নাসরের জয় ৩-১ ব্যবধানে নিশ্চিত হয়।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ফুটবলে পর্তুগাল দলের কোচের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে আসেন রোনালদো। ডেনমার্ক ম্যাচের আগে তার এই আকস্মিক প্রস্থান পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞার মুখে ফেলেছে রতাকে।
তবে মাঠের বাইরের এসব বিতর্ককে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ক্লাবের জার্সিতে টানা দুই ম্যাচে গোল করার কীর্তিগড়ে নিজের ফরে যে বিন্দুমাত্র মরচে পড়েনি, তা আবারও প্রমাণ করলেন পর্তুগিজ যুবরাজ।