'পেলের সামনে মেসিও নগন্য', বিতর্ক উসকে দিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তী

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে লিওনেল মেসির আবেগঘন বিদায়ের পরপরই ফুটবলের সর্বকালের সেরা কে—তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রোমারিও। ব্রাজিলের দৈনিক ও দিয়াতে প্রকাশিত এক কলামে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মেসি বিশ্বফুটবলের এক অসামান্য প্রতিভা হলেও ফুটবলের রাজা পেলের সঙ্গে তার কোনো তুলনা হয় না।

বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচের স্মৃতি এখনও স্মৃতিতে তাজা। বেনিনের বিপক্ষে ‘দ্য লাস্ট ট্যাঙ্গো’ খ্যাত বিদায়ী ম্যাচে ৩-০ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। পেনাল্টি থেকে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ১২৬তম গোল করে অশ্রুসজল চোখে বিদায় নেন ৩৮ বছর বয়সী এই মহাতারকা।

তবে সেই আবেগের রেশ কাটতে না কাটতেই রোমারিও তার কলামে লেখেন:

"মেসি কি পেলের চেয়েও বড়? মেসি নিশ্চিতভাবেই একজন অসাধারণ খেলোয়াড়, কিন্তু পেলের সঙ্গে তার কোনো তুলনা চলে না। প্রযুক্তি, গতি ও নিখুঁত দক্ষতার এমন অবিশ্বাস্য মেলবন্ধন ফুটবলে আর কখনো আসবে না। মেসির প্রতি আমার অগাধ সম্মান রয়েছে; তিনি সর্বকালের অন্যতম সেরা। তবে আজ থেকে ৫০ বছর আগেই পেলে তার সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকা ফুটবল উপহার দিয়ে গেছেন!"

রোমারিওর নিজস্ব স্মৃতি ও মেসির বিদায়

১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে শিরোপা জেতানো এবং প্রতিযোগিতার সেরা খেলোয়াড় হওয়া রোমারিও নিজে জাতীয় দলের হয়ে ৭০টির বেশি ম্যাচে ৫৫টি গোল করেছেন। কলামে ২০০৫ সালে গুয়াতেমালার বিপক্ষে নিজের বিদায়ী ম্যাচের স্মৃতিচারণ করেন তিনি। ৩-০ গোলে জয়ের সেই ম্যাচে গোল করার পর জার্সির নিচে থাকা টি-শার্টের বার্তা দেখিয়ে সদ্যজাত কন্যা আইভির ডাউন সিন্ড্রোমে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি বিশ্বকে জানিয়েছিলেন তিনি।

রোমারিও উল্লেখ করেন, জাতীয় দলকে বিদায় জানানোর অনুভূতি কতটা কঠিন তা তিনি খুব ভালো করেই বোঝেন। মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে ৯০ হাজারের বেশি দর্শকের বিদায়ী করতালিতে যেভাবে মেসি মাঠ ছেড়েছেন, তা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত হয়ে থাকবে।