চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের অবরুদ্ধ দশার ২৫ ঘণ্টা পেরিয়েছে। দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ থাকায় তিনি মাথা ও বুকের ব্যথা অনুভব করছেন বলে জানিয়েছেন। পাশাপাশি তার মেডিকেল সহায়তার প্রয়োজন বলেও জানান তিনি। তবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানিয়েছেন উপাচার্য সুস্থ আছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর দেড়টায় দেশ রূপান্তরকে তিনি শারিরীক অসুস্থতার কথা জানান। হোয়াটস অ্যাপে টেক্সট মেসেজে তিনি জানান, ‘আমি বুক ও মাথায় ব্যথা অনুভব করছি। এই মুহূর্তে কথা বলার মতো পরিস্থিতিতে নেই।’
এ দিকে দুপুর পৌনে দুইটার দিকে উপাচার্যের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে আসেন মেডিকেল টিম। স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে চুয়েট মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক ডা. মো. সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘উপাচার্য শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। তার রক্তচাপ স্বাভাবিক আছে। তবে অবরুদ্ধ থাকায় তিনি অস্বস্তি বোধ করছেন বলে জানিয়েছেন।’
বুকের ব্যাথার বিষয় জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘উপাচার্য এ ধরনের কোন কথা আমাকে বলেননি।’
এর আগে সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল পৌঁনে নয়টার দিকে উপাচার্য পদে যোগদানের ১৮ দিন পর তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। এ সময় তার সঙ্গে কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন ছাত্র ও শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা তৈরি হয়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাকে দপ্তর ত্যাগের জন্য দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেধে দেন। তবে তিনি কার্যালয় ত্যাগ না করায় শিক্ষার্থীরা সাড়ে ১২ টার দিকে ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। ভবনের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বাইরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও স্লোগান দিতে থাকেন। দিনভর অবস্থানের পর রাতভরও শিক্ষার্থীরা সেখানে অবস্থান করেন। রাতে রাউজানের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অং ছিং মারমা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ চালুর অনুরোধ জানালেও শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, নিজ হাতে লিখিত পদত্যাগপত্র হস্তান্তর অথবা প্রকাশ্যে পদত্যাগের ঘোষণা না দিলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরিফুল আলমকে উপাচার্য ভবন থেকে বের হতে দেওয়া হবে না।
গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিক অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
তবে নতুন উপাচার্য নিয়োগের খবর আসার পর রাতেই শিক্ষার্থীরা সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সাথে যোগ দিয়ে টানা কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
টানা আন্দোলনের মুখে ২৪ সেপ্টেম্বর অনলাইন যোগদান করেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। তবে আন্দোলন চলতে থাকায় তিনি ১৮ দিন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি।