প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে যুক্তরাষ্ট্রে হেনস্তার ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন হেনস্তার শিকার হওয়ার পর যেভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, এ ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হুইলচেয়ারে বের হওয়ার সময় অধ্যাপক ইউনূসকে হেনস্তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি তার দিকে এগিয়ে গিয়ে উচ্চস্বরে স্লোগান দিচ্ছে। এ সময় তাকে উদ্দেশ করে ‘হোয়াই ইউ কাম হেয়ার’সহ বিভিন্ন অপবাদসূচক কথা বলে চিৎকার করে বিক্ষোভকারীরা। এ ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রবাসী সমর্থকের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন হেনস্তার শিকার হওয়ার পর যে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত। অধ্যাপক ইউনূসের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বিদেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের এ ধরনের পদক্ষেপের চেষ্টা না করার বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে। এমন ঘটনা ঘটলে তা বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক পুনর্মিলন বা রিকনসিলিয়েশন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে অনুতাপের অভাব এবং বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি দলটির সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলনের সম্ভাবনা ব্যক্তিগতভাবে একেবারেই দেখেন না।
উল্লেখ্য, গত মাসে ইতালিতে হেনস্তার শিকার হন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। অধ্যাপক ইউনূসের প্রাপ্য মর্যাদা ও প্রটোকল যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়েছিল কি না, তা-ও সরকার খতিয়ে দেখবে বলে জানান তথ্য উপদেষ্টা।