সৌদি আরবের বিমানবন্দরে ফ্লাইট বিঘ্ন, বেবিচকের জরুরি নির্দেশনা

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট পরিচালনায় বিঘ্ন দেখা দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোকে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

যাত্রীদের সময়মতো ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জানানো, পুনঃবুকিং ও অর্থ ফেরতসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া এবং বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

গতকাল সোমবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের কার্যালয় থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে সীমিত কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এর আগে রিয়াদ বিমানবন্দর সাময়িক বন্ধের পরিপ্রেক্ষিতেও পৃথক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিলো।
বেবিচকের দুটি নির্দেশনায় যাত্রীদের নিরাপত্তা, কল্যাণ, সময়োপযোগী যোগাযোগ এবং বিমান সংস্থা ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে রিয়াদ বিমানবন্দরের অস্থায়ী বন্ধসংক্রান্ত প্রথম নির্দেশনায় জানানো হয়, বিমানবন্দরটি ১২ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় ভোর ৩টা পর্যন্ত বন্ধ থাকার কথা ছিল। এ পরিস্থিতিতে রিয়াদে সরাসরি কিংবা ট্রানজিট ফ্লাইট পরিচালনাকারী সব বিমান সংস্থাকে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরবর্তী সময়ে ১২ অক্টোবর জারি করা আরেকটি নির্দেশনায় বেবিচক জানায়, বিরাজমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সৌদি আরবজুড়ে বিমানবন্দর কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য বিঘ্ন ঘটছে। ফলে দেশটিতে সরাসরি বা ট্রানজিট ফ্লাইট পরিচালনার জন্য নির্ধারিত বিমান সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তবে নির্দেশনাগুলোতে সৌদি আরবের সব বিমানবন্দর সম্পূর্ণ বন্ধ থাকার কথা বলা হয়নি। বরং বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রমে বিঘ্ন ও সীমিত পরিচালনার পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বেবিচকের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিমানবন্দর বন্ধ, ফ্লাইট বিলম্ব, বাতিল কিংবা সময়সূচি পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক যাত্রীকে দ্রুততম সময়ে অবহিত করতে হবে।

এজন্য বিমান সংস্থাগুলোকে এসএমএস, টেলিফোন কল, ইমেইল, নিজস্ব ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অন্যান্য কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।

শুধু ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বের তথ্য জানালেই চলবে না; পরিবর্তিত ফ্লাইটের সময়, পুনঃবুকিংয়ের সুযোগ, অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা এবং যাত্রীদের করণীয় সম্পর্কেও সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিতে হবে।

বিশেষভাবে বলা হয়েছে, ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত না করে কোনো যাত্রীকে বিমানবন্দরে যেতে বলা যাবে না। এতে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত, অপেক্ষা এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ কমানো সম্ভব হবে বলে নির্দেশনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনা পাওয়ার আগেই অথবা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত না হয়ে যেসব যাত্রী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন কিংবা পৌঁছাবেন, তাদের যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের জন্য বসার ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানীয় জল, হালকা খাবার, প্রয়োজনীয় খাদ্য এবং অন্যান্য সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষ করে বয়স্ক যাত্রী, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রীদের প্রতি বাড়তি মনোযোগ দিতে বলা হয়েছে।

বেবিচক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কোনো ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীকে অযত্নে ফেলে রাখা যাবে না। প্রত্যেক যাত্রীর সঙ্গে সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং তাঁদের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিতে হবে।

ফ্লাইট বিঘ্নের কারণে কোনো যাত্রীর সৌদি আরবের ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি বা অভিবাসনসংক্রান্ত সহায়তার প্রয়োজন হলে সে বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বেবিচক জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোকে প্রয়োজন অনুযায়ী সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, ঢাকায় অবস্থিত সৌদি দূতাবাস এবং অন্যান্য উপযুক্ত সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়ে যাত্রীদের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে হবে।

নির্দেশনায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি কিংবা ভিসা নবায়নের কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সৌদি কর্তৃপক্ষের বিধিবিধান ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। ফ্লাইট বিঘ্ন মোকাবিলায় প্রতিটি সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাকে পর্যাপ্ত সহায়ক কর্মীসহ একজন দায়িত্বশীল ফোকাল পয়েন্ট বা সমন্বয় কর্মকর্তা মনোনীত করার নির্দেশ দিয়েছে বেবিচক। মনোনীত কর্মকর্তার নাম, পদবি, মোবাইল নম্বর ও ইমেইল ঠিকানা অবিলম্বে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

বিঘ্ন চলাকালে ওই কর্মকর্তাকে সব সময় যোগাযোগের জন্য সহজলভ্য থাকতে হবে। পাশাপাশি যাত্রী সহায়তা, ফ্লাইটের সর্বশেষ তথ্য এবং প্রয়োজনীয় পরিচালনগত ব্যবস্থা গ্রহণে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করতে হবে।

বেবিচকের নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট সব বিমান সংস্থাকে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বাস্তবায়ন এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখতে বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমানো, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং সঠিক সময়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিন নির্দেশনা দুটিতে স্বাক্ষর করেছেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ। এসব নির্দেশনার অনুলিপি বিমানবন্দরের এয়ারলাইন অপারেটরস কমিটির (এওসি) চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার প্রতিনিধিদের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রাপ্ত বিতরণ তালিকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, এয়ার আরাবিয়া, এয়ার এশিয়া ও এয়ার চায়নার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নাম রয়েছে।

সৌদি আরবগামী ও দেশটি হয়ে ট্রানজিট নেওয়া যাত্রীদের জন্য তাই সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পরিবর্তিত যাত্রার সময়, টিকিট পুনঃবুকিং, অর্থ ফেরত এবং ভিসাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জেনে বিমানবন্দরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।