দিল্লির সুপ্রিম কোর্টে বিরোধীরা, যন্তর মন্তরে ধরপাকড়

ভারতের জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু দিল্লি এখন তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনায় উত্তপ্ত। নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত ‘বিশেষ নিবিড় পুনরীক্ষণ’ (এসআইআর) প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে আইনি লড়াইয়ে নেমেছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। অন্যদিকে, দিল্লির ঐতিহ্যবাহী প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরকে তালিকার বাইরে রাখার প্রতিবাদে রাজপথে নেমে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন নতুন দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র নেতারা। খবর দ্য হিন্দুস্তান টাইমস ও আনন্দবাজার।

ভোটার তালিকা থেকে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে সোমবার (১২ অক্টোবর) রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গের নেতৃত্বে ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ পদযাত্রা বের করে বিরোধী দলগুলো। পুলিশের বাধা টপকে রাহুল গান্ধীসহ ১১ জন শীর্ষ নেতা সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত হয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন।

 

পিটিশনে নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত সব সিদ্ধান্তের নথি তলব ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়। আগামী ১৫ অক্টোবর আদালত এই মামলার শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

এদিকে, বারাখম্বা রোড থেকে শুরু হওয়া এই পদযাত্রার কোনো পূর্বানুমতি না থাকা এবং প্রচার ট্রাকের ধাক্কায় পুলিশের ব্যারিকেড ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগে দিল্লি পুলিশ বারাখম্বা ও তিলক মার্গ থানায় দুটি পৃথক এফআইআর নথিভুক্ত করেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান থেকে বাতিল করে রামলীলা ও বুরারি ময়দানসহ তিনটি বিকল্প স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মঙ্গলবার ভোরে যন্তর মন্তরে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা করলে সিজেপির দুই সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে আটক করে পুলিশ।

দীপকের সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা এক ভিডিওতে দেখা যায়, হাতে দলের পতাকা নিয়ে সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা-সহ কয়েক জন কর্মী লোহার গেট টপকে যন্তর মন্তরে ঢুকছেন। তাদের আটকাতে এগিয়ে আসে সেখানে মোতায়েন পুলিশ। সেই সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তিও হয়। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে ‘ভারতমাতা কি জয়’ এবং ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিতে থাকেন তারা। পরে পুলিশ তাদের আটক করে নিয়ে যায়। 

এই ঘটনার পরেই কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হন দীপকে। তার বক্তব্য, কোনও জায়গাকে প্রতিবাদস্থলের স্বীকৃতি থেকে বাদ দেওয়া গেলেও মানুষের প্রতিবাদের অধিকারকে মুছে ফেলা যায় না। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘প্রতিরোধকে কখনও তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যায় না।’

 

যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় দীপকে আরও বলেন, ‘এবার দেশের নানা প্রান্তে নতুন নতুন যন্তর মন্তর গড়ে উঠবে।’ তার অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভয় থেকেই এই সিদ্ধান্তের প্রতিফলন ঘটেছে।

বিশ্লেষণ বলছে, পুরো রাজনৈতিক সংঘাতের মূলে রয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার। তার পদত্যাগ দাবি করার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ বিরোধও প্রকাশ্যে এসেছে।

জানা গেছে, দুই নির্বাচন কমিশনার ১০ মাসে অন্তত ১৪টি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন। তবে কমিশন সমস্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত বলে দাবি করেছে। সব মিলিয়ে রাজপথ ও আদালতের দ্বিমুখী উত্তাপে উত্তাল দিল্লির রাজনীতি।