বগুড়ায় শিক্ষককে পিটিয়ে আহত, শিক্ষার্থী বহিষ্কার

বগুড়ায় ক্লাসে শাসন করায় ছুটির পর সড়কে এক শিক্ষককে গাছের ডাল দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে একই বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। আহত শিক্ষক আবু রায়হান বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাধ্যমিক শাখার শারীরিক শিক্ষক। তিনি বর্তমানে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে বগুড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) কার্যালয়ের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থী রিয়াদ ইসলাম কিরণকে (১৪) স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যালয় ও প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, সোমবার সপ্তম শ্রেণির টিফিনের পর ক্লাসে দুষ্টুমি করছিল রিয়াদ। বিষয়টি ক্লাস ক্যাপ্টেন শারীরিক শিক্ষক আবু রায়হানকে জানালে তিনি ওই শিক্ষার্থীকে শাসন করেন। এর জের ধরে শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিদ্যালয় ছুটির পর আবু রায়হান মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে এপিবিএন কার্যালয়ের সামনে গাছের মোটা ডাল হাতে নিয়ে আগে থেকেই অপেক্ষায় ছিল রিয়াদ। শিক্ষক সেখানে পৌঁছালে তাকে থামার সংকেত দেয় ওই শিক্ষার্থী।

শিক্ষক মোটরসাইকেল থামানোর পর কিছু বুঝে ওঠার আগেই হাতে থাকা গাছের ডাল দিয়ে তার মুখ ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে রিয়াদ। এরপর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় সে। হামলায় শিক্ষকের থুতনি ফেটে যায় এবং মারাত্মক রক্তক্ষরণ হয়। থুতনিতে আটটি সেলাই দিতে হয়েছে। এ ছাড়া ঘাড়েও গুরুতর আঘাত পেয়েছেন তিনি।

এদিকে, মঙ্গলবার দুপুরে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন মাধ্যমিক শাখার সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পরে রিয়াদকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের খবর পেয়ে তাঁরা ক্লাসে ফিরে যান।

বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মুহা. মুস্তাফিজুর রহমান জানান, মঙ্গলবার সকালে কারণ উল্লেখ করে রিয়াদকে প্রতিষ্ঠান থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, একজন শিক্ষকের গায়ে হাত তোলা মানে সব শিক্ষকের গায়ে হাত তোলা। হামলায় ব্যবহৃত গাছের ডালটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

অধ্যক্ষ আরও জানান, ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আগেও একাধিকবার শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ ছিল। তিনি বলেন, তাঁর ২০ বছরের কর্মজীবনে এমন শিক্ষার্থী দেখেননি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনেক দুষ্ট ও খারাপ আচরণ করা শিক্ষার্থীকে সংশোধন করেছে, যাঁরা বর্তমানে দেশের বিভিন্ন ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন।

শিক্ষকের ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না উল্লেখ করে অধ্যক্ষ বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে শাস্তির আওতায় আনতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে বাংলাদেশে আর কোনো শিক্ষার্থী এ ধরনের কাজ করার সাহস না পায়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে কেউ বহিষ্কারপত্র গ্রহণ না করায় সেটি ডাকযোগে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।