দুনিয়ার যে বন্ধু পরকালে শত্রু হবে

দুনিয়ায় বন্ধুত্ব মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক। বন্ধুরা একে অপরের সুখে-দুখে পাশে থাকে, পরামর্শ দেয় এবং নানা কাজে সহযোগিতা করে। তবে সব বন্ধুত্ব মানুষের জন্য কল্যাণকর নয়। কিছু বন্ধুত্ব মানুষকে ভালো কাজের পথে এগিয়ে নেয়, আবার কিছু বন্ধুত্ব পাপ ও অন্যায়ের দিকে ঠেলে দেয়। দুনিয়ায় যে বন্ধুত্ব আনন্দের কারণ হয়, পরকালে তা অনুশোচনা ও শত্রুতায় রূপ নিতে পারে। 

মহান আল্লাহ বলেন, ‘সেদিন বন্ধুরা একে অপরের শত্রু হবে, মুত্তাকিরা ছাড়া।’ (সুরা জুখরুফ ৬৭)

আয়াতটিতে কেয়ামতের দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে। দুনিয়ায় মানুষ নানা কারণে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। কেউ সম্পদের জন্য, কেউ স্বার্থের কারণে, আবার কেউ পাপাচার ও অন্যায় কাজে সহযোগিতা করতে গিয়ে একে অপরের ঘনিষ্ঠ হয়।

এসব সম্পর্কের ভিত্তি যদি হয় আল্লাহর অবাধ্যতা, তাহলে আখেরাতে তা কল্যাণ বয়ে আনবে না। বরং দুনিয়ায় একসঙ্গে করা অন্যায়ের পরিণতি যখন সামনে আসবে, তখন বন্ধুরাই একে অপরকে দোষারোপ করবে।

দুনিয়ায় যারা একে অপরকে পাপকাজে উৎসাহিত করেছে, আল্লাহর বিধান অমান্য করতে সহযোগিতা করেছে এবং অন্যায়কে স্বাভাবিক করে তুলেছে, আখেরাতে তারা নিজেদের সেই কাজের জন্য অনুতপ্ত হবে। তখন কেউ কাউকে রক্ষা করতে পারবে না। বরং পারস্পরিক সম্পর্কই তাদের দুর্ভাগ্যের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

তবে আল্লাহভীরুদের বন্ধুত্ব হবে এর ব্যতিক্রম। যেসব মানুষ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে একে অপরকে ভালোবাসে, সৎকাজে সহযোগিতা করে এবং অন্যায় থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত করে, তাদের সম্পর্ক দুনিয়াতেই কল্যাণের পথ তৈরি করে। এই বন্ধুত্বের ভিত্তি ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, বরং ইমান ও তাকওয়া। তাই দুনিয়ার জীবন শেষ হলেও তাদের বন্ধুত্বের কল্যাণকর প্রভাব শেষ হবে না।

উল্লিখিত আয়াত আমাদের বন্ধুত্বের প্রকৃতি নিয়ে ভাবতে শেখায়। বন্ধু নির্বাচন করার সময় শুধু তার আচরণ, জনপ্রিয়তা কিংবা পার্থিব সাফল্য বিবেচনা করাই যথেষ্ট নয়। বরং দেখতে হবে, তার সঙ্গ আমাদেরকে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে সহায়তা করছে কিনা। প্রকৃত বন্ধু সেই ব্যক্তি, যে ভুল করলে শুধরে দেয়, বিপদে পাশে থাকে এবং ভালো কাজে উৎসাহিত করে।

দুনিয়ার বন্ধুত্ব যেন আখেরাতে অনুশোচনার কারণ না হয়। বরং তা হোক আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং জান্নাতের পথে এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যম।