রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালিমা লেপনের প্রতিবাদে ৩৭ নাগরিকের বিবৃতি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে পোশাক নিয়ে কথিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শাস্তির দাবি এবং শিল্পকলা একাডেমির দেয়ালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে কালিমা লেপনের অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের বিশিষ্ট ৩৭ জন নাগরিক। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৭ অক্টোবর ঢাবির ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনীম সিরাজ মাহবুবের একটি শ্রেণিকক্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হেনস্তা ও শাস্তি দেওয়ার দাবি জানানো হচ্ছে। শিক্ষক নিজেই এর ব্যাখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন যে, নিকাব পরা শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করতে ও কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন করতে গিয়ে তিনি নিজের অস্বস্তির কথা বলেছিলেন, যা কোনোভাবেই ধর্মীয় বিশ্বাস বা পোশাকের অবমাননা নয়। কিন্তু একটি মহল বিষয়টিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

এর রেশ কাটতে না কাটতেই গত ৯ অক্টোবর শিল্পকলা একাডেমির দেয়ালে থাকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের প্রতিকৃতিতে কালি লেপন ও অবমাননার চেষ্টা চালানো হয়। অতীতে ষাটের দশকে পাকিস্তান আমলেও রবীন্দ্রনাথকে মুসলিম বিদ্বেষী বলে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমানের এসব কর্মকাণ্ড তারই ধারাবাহিকতা ও গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।

বিবৃতিদাতারা মনে করেন, আপাতদৃষ্টিতে ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে ধর্মান্ধতাকে উস্কে দিয়ে সমাজে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টির সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত। তাঁরা অবিলম্বে উভয় ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানান। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষ ও নতুন প্রজন্মকে এই অপপ্রচার নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ, মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল, খুশী কবির, শিরীন পারভিন হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, লেখক আবু সাঈদ খান, আইনজীবী জেড আই খান পান্না, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, ড. সামিনা লুৎফা, ড. গীতি আরা নাসরীনসহ দেশের ৩৭ জন বিশিষ্ট শিক্ষক, গবেষক, লেখক ও মানবাধিকারকর্মী।