আবুধাবি টেস্টে জয়ের সুবাস ছড়িয়েও শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। শেষ দিনে প্রতিপক্ষকে অলআউট করার জন্য পুরো ৯২ ওভার হাতে থাকলেও স্পিনারদের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পাওয়া এবং সহজ সুযোগ হাতছাড়া করায় ম্যাচটি ড্রয়ে নিষ্পত্তি হয়েছে।
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সারাদিন বোলিং করেও প্রতিপক্ষকে অলআউট করতে না পারার কারণে জয় না পাওয়ার তীব্র আক্ষেপের কথা লুকাননি বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষ আফগানিস্তানের ব্যাটারদের চমৎকার ব্যাটিং দৃঢ়তার প্রশংসাও করেছেন তিনি।
নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, 'অবশ্যই হতাশাজনক। তবে আমার মনে হয়, আফগানিস্তান দারুণ ক্রিকেট খেলেছে। আমরা সারাদিন কয়েকটি সুযোগ তৈরি করতে পেরেছিলাম, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেগুলোকে উইকেটে পরিণত করতে পারিনি।'
টেস্ট ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পেসাররা ধারাবাহিকভাবে ভালো করলেও এই ম্যাচে আবহাওয়া ও কন্ডিশন বিবেচনায় স্পিনারদের কাছ থেকেই বেশি প্রত্যাশা ছিল অধিনায়কের। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য না আসায় বিষয়টিকে বড় শিক্ষা হিসেবে নিচ্ছেন নাজমুল।
অধিনায়ক এ প্রসঙ্গে বলেন, 'গত কয়েক বছরে আমাদের পেসাররা অসাধারণ কাজ করছে। এখানকার আবহাওয়া ও কন্ডিশন বিবেচনায় এই ম্যাচে স্পিনারদের কাছ থেকে আমি সত্যিই ভালো কিছু আশা করেছিলাম। তারা নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তবে আগেই বলেছি, আফগানিস্তান অসাধারণ ব্যাটিং করেছে।'
একই সঙ্গে বাংলাদেশের পেস বোলিং আক্রমণের ভূয়সী প্রশংসা করেন নাজমুল। বিশেষ করে হাসান মাহমুদের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, 'আমি যখনই হাসানের হাতে বল তুলে দিই, সে দলের জন্য ভালো কিছু করে। কন্ডিশন যেমনই হোক, অস্ট্রেলিয়া কিংবা উপমহাদেশ—সে অসাধারণ পারফর্ম করছে।'
পেস ইউনিটের অন্যান্য সদস্য ইবাদত হোসেন, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা, খালেদ আহমেদ ও শরীফুল ইসলামের পরিশ্রমের কথাও উল্লেখ করে আগামীতে পেসারদের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
পাঁচ দিন ধরে কঠিন টেস্ট খেলার এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশকে সামনে আরও পরিণত করবে বলে বিশ্বাস অধিনায়কের। ম্যাচের ফল প্রত্যাশামতো না হলেও ব্যাটিং ইউনিটের পারফরম্যান্সে বেশ সন্তুষ্ট শান্ত। বিশেষ করে লিটন দাসের রানে ফেরা এবং মুশফিকুর রহিমের ধারাবাহিক ফর্মে থাকা দলের জন্য বড় ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন তিনি।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সমীকরণ ও প্রস্তুতি নিয়ে শান্ত যোগ করেন, 'বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে আমাদের সামনে বড় সুযোগ রয়েছে। এই ম্যাচের জন্য আমরা যে প্রস্তুতি ও পরিশ্রম করেছি, তা পরের সিরিজে কাজে দেবে। আমাদের ব্যাটিং ইউনিট যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে আমি বিশেষভাবে খুশি। লিটন আবারও রান পেয়েছে, মুশফিকও দারুণ ফর্মে আছে। দলের জন্য এটা খুবই ইতিবাচক।'
লিটনের বিশ্বরেকর্ড ও ফিটনেসের প্রশংসায় অধিনায়ক
সংযুক্ত আরব আমিরাতে এবারই প্রথম টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। এই টেস্টের প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা লিটন দাস উইকেটের পেছনে ৯টি ডিসমিসাল করে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। প্রথম উইকেটকিপার হিসেবে টেস্টের এক ম্যাচে দুটি পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংস এবং ৯টি ডিসমিসালের অনন্য নজির এখন তাঁর নামের পাশে।
ব্যাট হাতে দেড়শ রানের ইনিংস এবং উইকেটের পেছনে সিদ্ধান্ত গ্রহণে লিটনের নিখুঁত দক্ষতার পাশাপাশি ডিআরএস নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা করেন শান্ত, 'লিটন এই ম্যাচে যা করেছে, তা সত্যিই অসাধারণ। তবে শুধু এই ম্যাচ নয়, গত কয়েক বছর ধরেই সে উইকেটের পেছনে এবং ডিআরএসের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দারুণ করছে। এমন কন্ডিশনে সেঞ্চুরি করার পর ১৪০ ওভার উইকেটকিপিং করা তার মানসিক শক্তির পরিচয় দেয়। আশা করি, ব্যাট ও গ্লাভস দুই জায়গাতেই সে এই ফর্ম ধরে রাখবে।'
ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা লিটন দাসও আবুধাবির তীব্র গরমের চ্যালেঞ্জ সামলে নিজের ইনিংস পুনর্গঠনের অভিজ্ঞতা জানান, ' সত্যিই খুব কঠিন ছিল। কারণ, প্রচণ্ড গরম। এই গরমের মধ্যে পাঁচ দিন খেলা খুবই কঠিন। আমি শুধু এই গরমে নিজের শক্তি ধরে রাখার দিকে মনোযোগ দিয়েছি। আমরা ম্যাচটি জিততে চেয়েছিলাম, কিন্তু ক্রিকেটে কখনো কখনো এমনটাই হয়।'