ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় দিনদুপুরে এক বাড়িতে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে ডাকাতি ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও থানায় মামলা নেওয়া হচ্ছে না এবং পুলিশ কোনো সহযোগিতা করছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। গত ৬ অক্টোবর দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে উপজেলার ৫ নম্বর শৌলজালিয়া ইউনিয়নের উত্তর বলতলা গ্রামের মৃধাবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত গৃহকর্তা হেমায়েত উদ্দিন মৃধা (৬৫) বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের মেডিসিন ভবনের চতুর্থ তলার ১২ নম্বর ইউনিটে চিকিৎসাধীন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় বাড়িতে হেমায়েত উদ্দিন মৃধা ও তাঁর স্ত্রী ছিলেন। তাঁর ছেলেরা ব্যবসায়িক কাজে বাড়ির বাইরে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন মালয়েশিয়ায় প্রবাসী। এ সুযোগে স্থানীয় তিন ভাই নান্না হাওলাদার, সুমন হাওলাদার ও লিটন হাওলাদারের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের হাতে রামদা, বন্দুক ও কাটা বন্দুক ছিল। হেলমেট পরা অবস্থায় তারা বাড়িতে প্রবেশ করে তাণ্ডব চালায়।
হেমায়েত উদ্দিন মৃধা বলেন, ‘দুপুর বেলা আনুমানিক ১টার দিকে ২০-২২ জনের একদল ডাকাত আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। ডাকাতরা আমার সবকিছু নিয়ে গেছে। তারা আমার গায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে চোখ বেঁধে বেধড়ক পেটায় এবং হাঁটুতে আঘাত করে জখম করে। বর্তমানে আমি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, অথচ কাঁঠালিয়া থানায় যোগাযোগ করলেও পুলিশ কোনো সহযোগিতা করেনি।’
তিনি আরও বলেন, হামলার সময় সন্ত্রাসীরা হ্যান্ডমাইকে চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে হুমকি দেয়। তারা বলতে থাকে, ‘রাস্তা ফাঁকা করে দাও, রাস্তায় কেউ আইসো না।’ প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করে এভাবে হুমকি দেওয়ায় আতঙ্কে আশপাশের কেউ এগিয়ে আসার সাহস পাননি।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা ঘরের আলমারি ভেঙে নগদ ৫৭ হাজার টাকা, তিন জোড়া কানের দুল, একটি গলার চেইন, একটি নাকফুল, একটি হাতঘড়ি, চারটি বিদেশি কম্বল, চারটি বিদেশি টর্চলাইট ও পাঁচটি রাজহাঁস নিয়ে যায়। এ ছাড়া বাড়ি থেকে ১০টি গরু ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পরে স্বজনেরা ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় খোঁজাখুঁজি করে লুট হওয়া গরুগুলোর মধ্যে আট থেকে নয়টি পাশের এলাকা থেকে উদ্ধার করেন।
শৌলজালিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. কবির হোসেন হাওলাদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হেমায়েত উদ্দিন মৃধা ও তাঁর পরিবার অত্যন্ত ভালো মানুষ। তাঁদের বাড়িটি ওয়ার্ডের এক প্রান্তে হওয়ায় এবং সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে মাইকিং করে ত্রাস সৃষ্টি করায় ভয়ে কেউ পাশে দাঁড়াতে পারেনি।’
ওই ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত মহল্লাদার মো. আরিফ হোসেন বলেন, তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় বিছানায় ছিলেন। পরে মোবাইলে ঘটনার খবর দেখেছেন। সন্ত্রাসীদের ভয়ে মানুষ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ বিষয়ে কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাছের রায়হান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের থানায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ বা তথ্য আসেনি। এলাকাটি কাঁঠালিয়া ও ভাণ্ডারিয়ার সীমান্তবর্তী হওয়ায় গরুর উদ্ধারের বিষয়টি ভাণ্ডারিয়া থানা এলাকার দিকে হয়ে থাকতে পারে।’
ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেওয়ান জগলুল হাসান জানান, ঘটনাস্থল কাঁঠালিয়া থানার অধীনে হলেও ভুক্তভোগীরা তাঁদের কাছে ফোন করেছিলেন। পরে তাঁরা কাঁঠালিয়া পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরবর্তী সময়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ডাকাতদের ফেলে যাওয়া আটটি গরু উদ্ধার করা হয়।