রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি দেওয়ার ঘটনায় করা মামলায় সাকিবুল হাসান ও সুজন মিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক আব্দুল গাফফার হিমেল আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ উভয় পক্ষের শুনানি শেষে তাদের জামিনের আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে গত ১১ অক্টোবর এ মামলায় আসামি মারজিয়া খন্দকার রিমি ও সুজন মিয়াকে দুই দিন এবং ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’-এর সদস্যসচিব আ ন ম আয়াস ও সাকিবুল হাসানকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন ঢাকার একটি আদালত।
সাকিবুল হাসান ও সুজন মিয়াকে কারাগারে আটক রাখার আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় আসামিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আরও গভীর ও নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের পুনরায় রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
গত ১০ অক্টোবর দুপুরে শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি মুছতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন আ ন ম আয়াসসহ একদল তরুণ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে আয়াসসহ চারজনকে আটক করে পুলিশ।
ঘটনাস্থলে এক নারীকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি দিতে দেখা যায়। এ সময় পুলিশের এক সদস্য তাকে বাধা দেন। পুলিশের বাধার মুখে আয়াসের নেতৃত্বে তরুণেরা স্লোগানও দেন।