জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৩.২ শতাংশে নামার পূর্বাভাস

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। একই সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এর আগে গত জুলাইয়ে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল সংস্থাটি। গতকাল মঙ্গলবার আইএমএফের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অক্টোবর ২০২৬-এর পূর্বাভাসে বাংলাদেশের অর্থনীতির এমন চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে। ওই অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়াতে পারে ৮ দশমিক ৭ শতাংশে। সে হিসাবে, আগের অর্থবছরের তুলনায় চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আরও কমার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যদিও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের চার প্রান্তিকের গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। এ ছাড়া সরকার চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির হার হতে পারে ৩ দশমিক ১ শতাংশ। ২০২৭ সালে তা বেড়ে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে, ২০২৬ সালে বিশ্বে গড় মূল্যস্ফীতি ৪ দশমিক ৭ শতাংশ থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। পরের বছর এ হার কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। বাংলাদেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ব্যাংক খাতের সংস্কার, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সুশাসন জোরদার এবং কর-রাজস্ব বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ ভর্তুকির পরিবর্তে দরিদ্র ও ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির মতে, ভর্তুকি ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করা গেলে সরকারি ব্যয়ের কার্যকারিতা বাড়বে এবং দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে এসব কর্মসূচি আরও বেশি ভূমিকা রাখতে পারবে।

অন্যদিকে এডিবির পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪ শতাংশ। তবে একই সময়ে মূল্যস্ফীতি আবার বেড়ে ৯ শতাংশে উঠতে পারে। উচ্চ সুদহার, ঋণপ্রাপ্তিতে কঠোরতা, জ্বালানিসংকট ও বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়ায় শিল্প ও বিনিয়োগে চাপ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এসব সংস্কারের মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।