পাকিস্তান সরকারকে পিটিআইয়ের চ্যালেঞ্জ

পাকিস্তানের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপকে ঘিরে। দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশটিতে জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দারস্থ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। দলটির সাধারণ সম্পাদক সালমান আকরাম রাজা জিও নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের অধিকার। আমাদের যুক্তি ও প্রমাণ ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে।’ আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি পরিষ্কার হবে বলেও জানান তিনি। পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে পিটিআই এবং পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যে গত রবিবার খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারি করা হয়। ইতিমধ্যে প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিসহ পিটিআইয়ের ২৭৮ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে।

পিটিআইয়ের কেন্দ্রীয় তথ্য সম্পাদক শেখ ওয়াকাস আকরাম গতকাল মঙ্গলবার আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, সালমান আকরাম রাজার নেতৃত্বাধীন একটি আইনি কমিটি ইতিমধ্যে এ বিষয়ে আবেদন প্রস্তুত করেছে। তবে আবেদনটি সুপ্রিম কোর্টে, নাকি ফেডারেল সাংবিধানিক আদালতে দাখিল করা হবে, তা নিশ্চিত করেননি আকরাম। সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে চলমান এই বিরোধ নিরসন এবং সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম-পাকিস্তানের (জেইউআই-এফ) নেতা মাওলানা ফজলুর রহমান। সালমান আকবর রাজা জানান, প্রধানমন্ত্রী ও মাওলানার মধ্যে সব বিষয়ে ঐকমত্য হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তী সময়ে সরকার তাদের আলোচ্যসূচি বদলে ফেলে।

এদিকে, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই বলে দাবি করেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী। প্রদেশের অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বাজেট ব্যবহারে ব্যর্থতার জন্য ১৩ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা পিটিআই সরকারকে দায়ী করে তিনি বলেন, সন্ত্রাস মোকাবিলায় সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এই প্রদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য বরাদ্দ করা অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রতিমন্ত্রী। ১৩ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকার পরও সেখানকার সরকার ফরেনসিক ল্যাবরেটরি ও সেফ সিটি প্রকল্প চালু করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি বলেন, আফগানিস্তানের সঙ্গে অরক্ষিত সীমান্ত থাকা খাইবার পাখতুনখোয়ায় সন্ত্রাসবাদ কার্যকরভাবে মোকাবিলার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন ছিল। একই সুরে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরিফও পিটিআই সরকারের দীর্ঘদিনের অপশাসন ও উন্নয়নের ঘাটতির কড়া সমালোচনা করেন। পেশোয়ারে সাংবাদিকদের নাকভি বলেন, পর্যাপ্ত সম্পদ বরাদ্দ বা অন্যান্য পদক্ষেপ নেওয়া হলেও স্থানীয় সরকারের নেতৃত্ব ও সহযোগিতা ছাড়া কোনো যুদ্ধে জয়লাভ করা সম্ভব নয়।

পেশোয়ারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে : খাইবার পাখতুনখাওয়ায় গভর্নরের শাসন জারির পর গত সোমবার সড়ক অবরোধের কারণে প্রাদেশিক রাজধানী পেশোয়ারের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ছিল। গতকাল মঙ্গলবার পেশোয়ারের সব সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে বলে জানিয়েছেন শহরের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি)। সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেশোয়ারে সাত দিনের জন্য সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে জেলা প্রশাসন। তবে প্রদেশটির ডেরা ইসমাইল খান জেলার সব সরকারি ও বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় মঙ্গলবারও বন্ধ ছিল এবং এ দিনের নির্ধারিত সব পরীক্ষা বাতিল করা হয়।