ঘুরে ঘুরে প্রতিমার স্বর্ণ চুরি করত দম্পতি, গ্রেপ্তার ৪

রাজধানীর দুটি মন্দিরে প্রতিমার স্বর্ণের গহনা চুরির ঘটনায় এক দম্পতিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই দম্পতি বিভিন্ন মন্দিরে ঘুরে ঘুরে প্রতিমার গায়ে থাকা স্বর্ণের গহনা চুরি করত। তারপর সেগুলো বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করত। সম্প্রতি এই দম্পতিকে রাজধানীর রমনা মন্দিরের কালী প্রতিমার জিহ্বায় থাকা স্বর্ণের গহনা চুরির ঘটনায় শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির ও নারায়ণগঞ্জের লোকনাথ আশ্রমের স্বর্ণ চুরির সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়।

গ্রেপ্তাররা হলেন অর্ণব রায় দীপ্ত ও লিপি কর্মকার দম্পতি এবং চুরি হওয়া স্বর্ণ কেনা দোকানি মো. মুহিন ও সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরের চুরির স্বর্ণ কেনা দোকানি জাকারিয়া ইসলাম। মঙ্গলবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন।

ফারুক হোসেন বলেন, গত ৭ অক্টোবর রমনা কালীমন্দিরে কালীর বিগ্রহের জিহ্বায় রাখা ছয় আনা স্বর্ণের গহনা চুরি হয়। এ ঘটনায় মন্দিরের পুরোহিত সুজিত চক্রবর্তী শাহবাগ থানায় অভিযোগ করেন। পরে মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অজ্ঞাত পরিচয়ের আসামিদের শনাক্ত করে পুলিশ। রবিবার উত্তরখান থানাধীন ডোবাদিয়া এলাকা থেকে চুরির ঘটনায় জড়িত লিপি কর্মকার ও দীপ্তকে আটক করা হয়। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণখান থানাধীন সাদিয়া জুয়েলার্সের মালিক মো. মুহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে দুই আনা এক রতি চার পয়েন্ট স্বর্ণের পাত উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া গত ১৩ সেপ্টেম্বর সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরে প্রতিমার স্বর্ণ চুরির ঘটনায় রমনা থানায় আরেকটি মামলা করা হয়। রমনা কালীমন্দিরের চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার অর্ণব রায় ও লিপি কর্মকারকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরের চুরির ঘটনায়ও তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জাকারিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের মন্দিরে বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর গলার স্বর্ণের চেইন চুরি করে পালানোর সময় একজন পুরোহিতের হাতে ধরা পড়ে এই দম্পতি। পরে মন্দির কমিটির সদস্যরা তাদের ছেড়ে দেন। এই দম্পতির বিরুদ্ধে তিনটি ঘটনায় সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছি।