দুমকিতে থামছে না মা-ইলিশ শিকার

পটুয়াখালীর দুমকিতে মা-ইলিশ রক্ষায় মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের অভিযান চললেও বন্ধ হচ্ছে না অবৈধভাবে ইলিশ শিকার। অভিযানের ট্রলার একদিকে জেলেদের ধাওয়া করলে অন্যদিকে নির্বিঘ্নে জাল ফেলছেন তারা। প্রশাসনের টহল শেষ হলেই আবার শুরু হচ্ছে মাছ ধরা। এভাবে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পায়রা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে দিন-রাত চলছে মা-ইলিশ শিকার।

মৎস্য বিভাগ ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত ২৬ হাজার মিটার অবৈধ জাল ও তিনটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা জব্দ করেছে। এরপরও থামছে না ইলিশ শিকার। জনবল ও টহল দলের স্বল্পতার সুযোগ নিয়ে একশ্রেণির মৌসুমি জেলে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাছ ধরছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পায়রা নদীর পাঙ্গাশিয়া, আলগী, লেবুখালী, আঙ্গারিয়া ও মুরাদিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাল ফেলা হচ্ছে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্করাও মাছ ধরায় অংশ নিচ্ছেন। তাদের পরিবারের নারী সদস্যরা নদীর তীরে অবস্থান করে প্রশাসনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছেন।

অভিযানের ট্রলার দূরে দেখা গেলেই মোবাইল ফোনে জেলেদের সতর্ক করা হচ্ছে। সংকেত পেয়ে জেলেরা দ্রুত জাল ফেলে তীরে উঠে আত্মগোপন করেন। অভিযানের ট্রলার চলে গেলে আবার নদীতে নেমে জাল তুলে মাছ সংগ্রহ করেন। অনেক সময় প্রশাসনের দল একদিকে ধাওয়া করলে অন্যদিকে জাল ফেলে মাছ শিকার করা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ধরা ইলিশের একটি অংশ গোপনে বিক্রি ও মজুত করা হচ্ছে। উপজেলার হাজিরহাট, লেবুখালী ফেরিঘাট, ভাঙ্গার মাথা, আঙ্গারিয়া বন্দর, পাতাবুনিয়ার হাট, জেলেপাড়া, উত্তর মুরাদিয়া ও জোয়ারগরবদিসহ বিভিন্ন এলাকায় বরফের বাক্সে ইলিশ মজুত রাখার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

পাঙ্গাশিয়ার বাসিন্দা মো. ফারুক হোসেন বলেন, প্রশাসন একদিকে অভিযান চালালে অন্যদিকে জেলেরা মাছ ধরছেন। এভাবে চলতে থাকলে মা-ইলিশ রক্ষার উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। নদীর সব গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে একযোগে অভিযান চালানো প্রয়োজন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, তাদের টহল দল কিছুক্ষণ আগেই ওই এলাকা থেকে ঘুরে এসেছে। জনবল কম এবং মাত্র একটি টহল দল থাকায় সব এলাকায় সমানভাবে নজরদারি করা কঠিন হচ্ছে। তবে টহল দল বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলমান অভিযানে এ পর্যন্ত ২৬ হাজার মিটার অবৈধ জাল ও তিনটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা জাল প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে পর্যাপ্ত জনবল, বরাদ্দ ও দ্রুতগতির নৌযানের অভাবে নদীর বিস্তীর্ণ এলাকায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

প্রজনন মৌসুমে মা-ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলছে। এ সময়ে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে নদীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে একাধিক টহল দল মোতায়েন, দিন-রাত নজরদারি বৃদ্ধি এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন বাসিন্দারা।