টঙ্গীর আগুন ৪ ঘন্টায় নিয়ন্ত্রণে,  বাতাসে রাসায়নিক ঝাঁঝ

গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকায় অবস্থিত সুপরিচিত ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’-এর কারখানায় লাগা ভয়াবহ আগুন দীর্ঘ চার ঘণ্টার যৌথ প্রচেষ্টায় অবশেষে নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস। তবে ভবনের ভেতরে থাকা বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক দ্রব্য ও কেমিক্যালের কারণে আগুন পুরোপুরি নিভিয়ে ডাম্পিংয়ের কাজ সম্পন্ন করতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পর্যন্ত সময় লাগবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে কারখানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীদের সূত্রে জানা যায়, এদিন সকাল ১০টা ১০ মিনিটে ওই ওষুধ কারখানার দ্বিতীয় ইউনিটের ৫ তলা ভবনের চতুর্থ তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ও ধোঁয়া পুরো কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে আকাশের অনেকটাই ঘন কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় এবং আশপাশের এলাকায় তীব্র তাপ ও রাসায়নিক পদার্থের ঝাঁঝালো গন্ধে মারাত্মক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

কারখানার ভেতরে কেমিক্যাল, বিপজ্জনক কাঁচামাল এবং ওষুধ তৈরির বিভিন্ন শিল্পজাত উপকরণ মজুত থাকায় আগুন দ্রুত সংহারী রূপ ধারণ করে। ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও কাচ দিয়ে নির্মিত আধুনিক ভবনটিতে তাপমাত্রা মারাত্মক বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং কারখানার ভেতরের পানির সরবরাহ দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ায় উদ্ধার কাজ জটিল হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে প্রথমে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরবর্তীতে আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় গাজীপুর, উত্তরা, কুর্মিটোলা, পূর্বাচল ও রাজেন্দ্রপুরসহ বিভিন্ন ফায়ার স্টেশন থেকে পানিবাহী গাড়িসহ মোট ২১টি ইউনিট অগ্নিনির্বাপণে অংশ নেয়।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় ফায়ার বাহিনীর পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), শিল্প পুলিশ ও থানা পুলিশের সদস্যরা যৌথভাবে মাঠে নামেন। ঘন ধোঁয়া, অসহ্য তাপ ও কেমিক্যালের তীব্র ঝাঁঝ কাটিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে ফায়ার ফাইটারদের প্রচণ্ড বেগ পেতে হলেও যৌথ দলের ৪ ঘণ্টার সমন্বিত চেষ্টায় দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে আগুন প্রাথমিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আসে।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের সুপার মো. আমজাদ হোসেন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এই ফার্মাসিউটিক্যালস ইউনিটে মোট ৩৮৫ জন শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। তবে সৌভাগ্যবশত এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা কারখানার ভেতরে কেউ আটকা পড়ার খবর পাওয়া যায়নি।

তাৎক্ষণিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের নিখুঁত কারণ কিংবা আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ জানা সম্ভব হয়নি। তবে অগ্নিকাণ্ডে ভেতরে থাকা উৎপাদিত ওষুধ, কাঁচামাল ও গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ভস্মীভূত হয়ে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় বর্তমানে ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে পুলিশ ও সেনাসদস্যরা।