সরকারের কৌশলে আস্থা বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের

বাংলাদেশ বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে বলে বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগসহ বিভিন্ন বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সংস্থা ও আন্তর্জাতিক অংশীদাররা উল্লেখ করেছেন। একইসঙ্গে এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারের নিজস্ব অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও সংস্কার কৌশলের প্রতি তারা আস্থা প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। গতকাল বুধবার  ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার ফাঁকে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। খবর বাসস।

ড. তিতুমীর বলেন, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনায় তিনটি বিষয়ে স্পষ্ট ঐকমত্য পাওয়া গেছে। প্রথমত, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে এবং সেই পরিস্থিতি আড়াল না করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে তা পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছে। দ্বিতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে জ¦ালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে নতুন চাপ তৈরি হলেও তা মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া কৌশলের প্রতি অংশীদারদের আস্থা রয়েছে। তৃতীয়ত, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, ব্যাংক খাতের সংস্কার এবং দারিদ্র্য কমাতে সরকারের নির্ধারিত কর্মসূচিগুলোকে তারা বাস্তবসম্মত বলে মনে করছেন। উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা সমস্যাগুলো কার্পেটের নিচে না রেখে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে মোকাবিলা করছি। আমাদের নিজস্ব কৌশল রয়েছে এবং সেই কৌশলের প্রতি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা তৈরি হয়েছে।’

তিনি জানান, সরকারের সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের বিষয়ে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, চীনের এক্সিম ব্যাংক এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে দর-কষাকষির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের বিষয়ে অগ্রগতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে তিতুমীর বলেন, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত চরিত্র এবং সাম্প্রতিক বহিঃস্থ ধাক্কার বিষয়টি উঠে এসেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংক, বিভিন্ন দেশের ট্রেজারি বিভাগ ও বহুপক্ষীয় সংস্থার প্রতিনিধিরা বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে আগের অর্থনৈতিক দুর্বলতা এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের নিজস্ব কৌশল রয়েছে এবং তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের বিষয়ে অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। অর্থায়ন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে দর-কষাকষি অব্যাহত থাকবে।

উপদেষ্টা বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা কীভাবে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার কাজ করছি, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা তৈরি হয়েছে। তারা আমাদের কৌশলকে বাস্তবসম্মত মনে করছেন এবং অর্থায়নের বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছেন।’

তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান আলোচনা ও দর-কষাকষির মাধ্যমে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের বিষয়ে অগ্রগতি হবে। এতে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, সংস্কার বাস্তবায়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

ড. তিতুমির থাইল্যান্ড সফরে বিভিন্ন ফোরামে মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় সামাজিক সুরক্ষা; করের হার না বাড়িয়ে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির উদ্যোগ; ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার কৌশল; মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির সমন্বয়ে বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা এবং নিজস্ব সংস্কার পরিকল্পনায় সরকারের মালিকানা বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করছেন।