হামজার বিতর্কিত লালকার্ডে তীব্র প্রতিক্রিয়া শেফিল্ড কোচের

দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল শেফিল্ড ইউনাইটেড। কিন্তু শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা আর রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তে শেষ পর্যন্ত পোর্টসমাউথের কাছে ২-৩ ব্যবধানে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ‘ব্লেডস’ খ্যাত শেফিল্ডকে। আর এই হারের পেছনে হামজা চৌধুরীকে রেফারির বিতর্কিত লাল কার্ডের সিদ্ধান্তকে দায়ী করে ম্যাচ শেষে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শেফিল্ড কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার।

মঙ্গলবার রাতে পোর্টসমাউথের মাঠে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। প্রথমার্ধের লড়াই শেষে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর দ্রুতই দ্বিতীয় গোল হজম করে ২-০ তে পিছিয়ে পড়ে শেফিল্ড ইউনাইটেড। তবে দুর্দান্ত লড়াই করে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় তারা এবং চমৎকারভাবে স্কোরলাইন ২-২ সমতায় আনে। মনে হচ্ছিল দুর্দান্ত এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়বে ক্রিস ওয়াইল্ডারের শিষ্যরা।

ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় দ্বিতীয়ার্ধে হামজা চৌধুরীর একটি বিতর্কিত ফাউল ও লাল কার্ডের সুবাদে। চেলসির তরুণ খেলোয়াড় রায়ান কাভুমা-ম্যাককুইনকে ফাউল করার দায়ে হামজাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান রেফারি অলিভার ল্যাংফোর্ড।

এই সুযোগে ম্যাচের ৮৯ মিনিটে দারুণ এক গোল করে পোর্টসমাউথকে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয় এনে দেন বদলী এবৌ অ্যাডামস।

ম্যাচ শেষে রেফারির সমালোচনা করে ক্রিস ওয়াইল্ডার বলেন:

"হামজা কোথায় যাবে? সে কি অদৃশ্য কোনো জাদুকর নাকি যে চোখের পলকে মিলিয়ে যাবে? পুরো মাঠেই তো এমন টুকটাক ঘটনা ঘটে। রেফারি নাকি প্রথমে হামজাকে লাল কার্ড না দেখানোর কথাই ভেবেছিলেন, পরে হঠাৎ সিদ্ধান্ত পাল্টে পকেট থেকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড বের করলেন।"

যোগ করে ওয়াইল্ডের আক্ষেপ, "ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে আমাদের এক খেলোয়াড়ের জার্সি টেনে ধরে প্রায় খুলে ফেলা হলো, কিন্তু তখন কোনো পেনাল্টি দেওয়া হলো না। প্রতিপক্ষ দলের ফুটবলারদের প্ররোচনা ও গেমম্যানশিপের কাছে আমরা যেন আজ অসহায় ছিলাম। এই সিদ্ধান্তে আমরা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।"

এই পরাজয়ের ফলে চ্যাম্পিয়নশিপে শেফিল্ড ইউনাইটেডের পয়েন্ট টেবিলের অবস্থান আরও পেছাল।