হালান্ডের জোড়া গোল, দেম্বেলেরা করলো দ্বিগুণ

আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের শতাধিক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ঘরের মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে এটিই ছিল ম্যানচেস্টার সিটির প্রথম ম্যাচ। গ্যালারিতে সাবেক মহাগুরু পেপ গার্দিওলার উপস্থিতি এবং ‘সিটি টিল আই ডাই’ ব্যানারে পুরো পরিবেশজুড়ে যখন লড়াইয়ের আবহ, ঠিক তখনই মাঠে দেখা গেল ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন পিএসজির ফুটবল শৈলীর নিষ্ঠুর প্রদর্শনী। প্রথমার্ধেই তিন গোলের ঝড়ে সিটিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করার পর, দ্বিতীয়ার্ধে আর্লিং হালান্ডের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের চেষ্টাকে নস্যাৎ করে ৪-২ ব্যবধানের এক রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লুইস এনরিকের দল।

ম্যাচের শুরু থেকেই ঘরের মাঠের দর্শকদের স্তব্ধ করে দেয় পিএসজি। ১৬তম মিনিটে ফাবিয়ান রুইজে পাস থেকে বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে প্রথম গোল করেন দেজিরে দুয়ে। ঠিক ৭৫ সেকেন্ডের মাথায় দুয়ের ক্রস থেকে চমৎকার হেডে সিটির নতুন গোলরক্ষক মার্ক গুয়েহিকে বোকা বানিয়ে ব্যবধান ২-০ করেন উসমান দেম্বেলে।

দুয়ে-দেম্বেলে জুটিতে ম্যাচের শুরুতেই ছিটকে পড়ে ম্যান সিটি, ছবি: সংগৃহীত

এরপর ৩২তম মিনিটে ওয়ারেন জায়ারে-এমেরির ব্যাকহিল অ্যাসিস্ট থেকে ভিতিনহার নিচু ড্রাইভ জালে জড়ালে প্রথমার্ধেই ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

বিরতির পর এনজো মারেস্কার ট্রিপল সাবস্টিটিউশনে যেন প্রাণ ফিরে পায় ম্যানচেস্টার সিটি। ৫৩তম মিনিটে ইলিমান এনদিয়ায়ের ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে সিটিকে প্রথম গোল এনে দেন হালান্ড। এই গোলের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে দ্রুততম (মাত্র ৬০ ম্যাচে) ৬০ গোলের নতুন রেকর্ড গড়েন এই নরওয়েজিয়ান ফরোয়ার্ড, যা এতদিন ৮০ ম্যাচে করা লিওনেল মেসির দখলে ছিল।

তবে ৫৬তম মিনিটে পিএসজি উইঙ্গার মাগনেস আকলিউশের দূরপাল্লার শট ঠেকাতে গিয়ে গোলরক্ষক জানলুইজি দোন্নারুম্মার মারাত্মক ভুলে পিএসজি ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেলে সিটির ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্নে জল পড়ে। পরে ৭৫তম মিনিটে আইয়ুব বুয়াদ্দির পাস থেকে হালান্ড নিজের দ্বিতীয় গোল করে (৪-২) ম্যাচ জমিয়ে তুললেও তা সিটির পরাজয় এড়াতে যথেষ্ট হয়নি। শেষ দিকে বিকল্প হিসেবে নামা ফেরান তোরেসের দুর্বল পেনাল্টি কিক ঠেকিয়ে নিজের ভুল কিছুটা শোধ করেন সাবেক পিএসজি গোলরক্ষক দোন্নারুম্মা।

প্রথমার্ধের বিপর্যয় কাটিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে ২৭টি শট নিয়েও পরাজয়ের আক্ষেপ থাকলেও দলের আত্মবিশ্বাসে কোনো ঘাটতি দেখছেন না সিটি কোচ। ম্যাচ শেষে চ্যানেল টিএনটি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এনজো মারেস্কা বলেন, ‘আমার মনে হয় আমরা ওদের খুব কাছাকাছি চলে এসেছিলাম। এটি কিছুটা অদ্ভুত ম্যাচ ছিল, বিশেষ করে আমরা দুই মিনিটের মধ্যে দুটি গোল হজম করায় সমস্যায় পড়ে গিয়েছিলাম। প্রথমার্ধের জন্য আমরা দুঃখিত, তবে দ্বিতীয়ার্ধের পারফরম্যান্সে আমরা বেশ সন্তুষ্ট।’ 

ম্যাচ শেষে এনরিকের সাথে কথোপকথন প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে মারেস্কা আরও যোগ করে বলেন, ‘ম্যাচ শেষে লুইস এনরিকে আমাকে নিজে বলেছেন যে শেষ পর্যন্ত তারা কিছুটা ভাগ্যবান ছিলেন। গত দুই বছর ধরে পিএসজি ইউরোপের সেরা দল, তারা প্রায় সব ম্যাচই জিতেছে।’ 

অন্যদিকে প্রথমার্ধে আধিপত্য দেখালেও দ্বিতীয়ার্ধে সিটির ভয়ংকর আক্রমণাত্মক রূপ দেখে উচ্ছ্বাস ও সতর্কতা প্রকাশ করেছেন জয়ী দলের কোচ। ম্যাচ শেষে ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম ক্যানাল প্লাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পিএসজি কোচ এনরিকে জানান, ‘প্রথমার্ধে আমরা সিটির চেয়ে অনেক অনেক ভালো খেলেছি। তবে এই পর্যায়ের ফুটবলে ৩-০ গোলে এগিয়ে থাকলেও ম্যাচ শেষ হয়ে যায় না, আমরা তো ম্যাচটা হেরেও যেতে পারতাম!’ 

বারকোলার হ্যাটট্রিকে লিভারপুলের গোলবন্যা

রাতের অন্য ম্যাচে অস্ট্রিয়ার রাফেইসেন অ্যারেনায় এলএএসকে-র বিপক্ষে ৬-৩ গোলের বিশাল জয় তুলে নিয়েছে লিভারপুল। অল রেডদের হয়ে ক্লাব ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক উপহার দেন ফরাসি ফরোয়ার্ড ব্র্যাডলি বারকোলা। পিএসজি থেকে বড় অঙ্কের ট্রান্সফার ফিতে লিভারপুলে আসার পর এটিই ছিল তার প্রথম গোল। দলের হয়ে অন্য গোলগুলো করেন রোনাল্ড আরাউহো, জেরেনি ফ্রিমপং এবং লুইস কুমাস।