বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) গবেষণা মাঠে (যা পূর্বে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মাঠ হিসেবে পরিচিত ছিল) সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনার তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় এর প্রতিবাদে জাতীয় প্রেস ক্লাবে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করে শেকৃবি পরিবার।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১৯২০ সালে তৎকালীন ‘দ্য বেঙ্গল এগ্রিকালচার ইনস্টিটিউট’ (বর্তমান শেকৃবি) প্রতিষ্ঠার জন্য ব্রিটিশ সরকার ২৬৮.৮২ একর জমি অধিগ্রহণ করে, যার অন্যতম অংশ ছিল এই গবেষণা মাঠটি। পরবর্তীতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের তোয়াক্কা না করে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের আমলে নিয়মবহির্ভূতভাবে ২৮.১৩ একর জমি বাণিজ্য মেলার মাঠ হিসেবে সাময়িকভাবে ব্যবহারের জন্য হস্তান্তর করা হয়।

শেকৃবির পুরোনো গবেষণার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনার প্রতিবাদে মানববন্ধনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়, জাতীয় সংসদ ভবনসংলগ্ন এলাকা, প্রত্নসম্পদ আইন ১৯৬৮, বিএনবিসি ২০২০ এবং ড্যাপ (২০২২-২০৩৫)-এর বিধান অনুযায়ী এই স্থানের ঐতিহাসিক ও নান্দনিক রূপ সংরক্ষণ করা একটি আইনি বাধ্যবাধকতা। এখানে বিশাল কংক্রিটের সচিবালয় নির্মিত হলে রাজধানীর অন্যতম প্রধান সবুজ ফুসফুস ও পরিবেশ ধ্বংস হবে। পুরো এলাকার তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শেকৃবি যখন জমিটিতে উচ্চতর কৃষি শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম প্রসারের উদ্যোগ নেয়, ঠিক সে সময় সচিবালয় স্থানান্তরের এই সিদ্ধান্ত ক্যাম্পাসে ও প্রায় ৫০ হাজার প্রাক্তন শিক্ষার্থীর মাঝে অসন্তোষ ছড়িয়ে দিয়েছে। 

মানববন্ধনে নগর-পরিকল্পনাবিদদের মতামত ও পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনা ছাড়া এই ধরনের সিদ্ধান্ত পরিহার করে মাঠটিতে শেকৃবির কৃষি গবেষণা ও পরিবেশবান্ধব শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ অব্যাহত রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত রাখারও ঘোষণা দেন তারা।