ইউরোপিয়ান ফুটবলে লিওনেল মেসির দীর্ঘদিনের রাজত্বে এক রাতেই হানা দিলেন দুই আধুনিক ফুটবলের রাজপুত্র, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হালান্ড। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজ নিজ দলের হয়ে মাঠে নেমে ঐতিহাসিক দুই কীর্তিতে ফুটবল মহাতারকা মেসিকে সিংহাসনচ্যুত করলেন এই দুই তারকা।
রোমার মাঠে রিয়াল মাদ্রিদের রোমাঞ্চকর ৪-৩ ব্যবধানের জয়ের রাতে ২৭ বছর বয়সে ক্যারিয়ারের ১০০তম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচ খেলার অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেন এমবাপ্পে। এর মাধ্যমে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে সেঞ্চুরি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটি নিজের করে নেন এই ফরাসি ফরওয়ার্ড। ২০১৫ সাল থেকে এতদিন ২৮ বছর বয়সে এই কীর্তি গড়ে শীর্ষে অবস্থান করছিলেন মেসি।
লস ব্লাঙ্কোসদের অবিশ্বাস্য জয়ে এই রাতে রিয়ালের হয়ে সমতাসূচক প্রথম গোলটি করে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের গোলসংখ্যা ৭২-এ নিয়ে যান এমবাপ্পে। এই গোলের মাধ্যমে ক্লাব কিংবদন্তি রাউল গঞ্জালেসকে টপকে টুর্নামেন্টের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় পাঁচ নম্বরে উঠে এসেছেন রিয়াল তারকা।
অন্যদিকে, ঘরের মাঠে পিএসজির কাছে ম্যানচেস্টার সিটির ৪-২ গোলের হারের রাতেও একক পারফর্ম্যান্সে উজ্জ্বল ছিলেন হালান্ড। দল হারলেও প্রথমার্ধের বিরতির পর ৫৩তম মিনিটে দুর্দান্ত এক হেডে গোল করে চ্যাম্পিয়নস লিগে দ্রুততম ৬০ গোলের রেকর্ড গড়েন এই নরওয়েজিয়ান তারকা। ২৬ বছর ৮৫ দিন বয়সে এই গোল করে কম বয়সে ৬০ গোলের দেখা পাওয়া খেলোয়াড় হিসেবে মেসিকে (২৬ বছর ৮৬ দিন) ঠিক একদিনের ব্যবধানে পেছনে ফেলেন হালান্ড।
শুধু বয়সের দিক থেকেই নয়, মাত্র ৬০ ম্যাচে ৬০ গোল করে বিশ্ব ফুটবলের এই এলিট তালিকায় অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছেন নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার। চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে নিজেদের প্রথম ৬০ ম্যাচে এত গোল করতে পারেননি আর কোনো ফুটবলার।
এই তালিকায় হালান্ডের ৬০ গোলের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রুদ ভ্যান নিস্তেলরয় (৪৮ গোল), আর মেসির ছিল মাত্র ৩৯ গোল। ম্যাচটিতে পরে আরও একটি গোল করে নিজের টুর্নামেন্ট সংখ্যা ৬১-তে উন্নীত করেন হালান্ড। পাশাপাশি ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে ৩৭ গোল পূরণ করে ক্লাবের সাবেক কিংবদন্তি সার্জিও অ্যাগুয়েরোকেও (৩৬ গোল) ছাড়িয়ে গেছেন এই গোলমেশিন।