ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত নয়: ডিআইজি

বরগুনার আমতলীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের বরিশাল রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. জুলফিকার আলী হায়দার।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে আমতলী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি পূজার প্রস্তুতি, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিআইজি মো. জুলফিকার আলী হায়দার বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পূজামণ্ডপসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, কোনো ধরনের গুজবে কান দেওয়া যাবে না। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে, এমন কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে প্রশাসন, পুলিশ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আমতলী উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট হরিহর চন্দ্র দাস।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা, পিপিএম (সেবা); আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান; বরগুনার সহকারী পুলিশ সুপার (আমতলী সার্কেল) মো. তারিকুল ইসলাম মাসুদ এবং আমতলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার দত্ত।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. জালাল উদ্দীন ফকির, সাবেক সদস্যসচিব মো. তুহিন মৃধা, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মো. কবির ফকির, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল আহম্মেদ খান এবং উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জগদীশ চন্দ্র বসু। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, পুরোহিত, আমতলী থানার পুলিশ সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে দুর্গাপূজার সার্বিক প্রস্তুতি, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে কোনো উদ্বেগ বা সংশয় রয়েছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়। উৎসব চলাকালে যেকোনো সমস্যা দ্রুত প্রশাসন ও পুলিশের নজরে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন, পুলিশ, পূজা উদযাপন পরিষদ ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগে আমতলীতে শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হবে।