ভিডিও গেম অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতায় এবার বিশ্বজুড়ে বড় পর্দায় আসছে ক্যাপকমের জনপ্রিয় লড়াইয়ের গেম ‘স্ট্রিট ফাইটার’। ‘দ্য সুপার মারিও ব্রোস. মুভি’, ‘আ মাইনক্রাফট মুভি’, ‘রেসিডেন্ট ইভিল’ ও ‘ফাইভ নাইটস অ্যাট ফ্রেডিস’-এর মতো সাম্প্রতিক সফল কাজের পর এই অ্যাকশন ও মার্শাল আর্টভিত্তিক সিনেমাটি ১৬ অক্টোবর আন্তর্জাতিক মুক্তির দিনেই বাংলাদেশের স্টার সিনেপ্লেক্সে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। ১৯৯৪ সালে জ্যঁ-ক্লদ ভ্যান ড্যাম অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্রের দীর্ঘ সময় পর সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিক ও আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে রূপালি পর্দায় ফিরছে এই ফ্র্যাঞ্চাইজি।
চলচ্চিত্রটির মূল কাহিনি শুরু হয় ১৯৯৩ সালের প্রেক্ষাপট দিয়ে। একসময়ের ঘনিষ্ঠ দুই মার্শাল আর্ট যোদ্ধা রিউ ও কেন মাস্টার্স পরস্পরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার পর রহস্যময়ী চুন-লি তাঁদের আবারও লড়াইয়ের জগতে ফিরিয়ে আনে। বাধ্য হয়ে তাঁদের অংশ নিতে হয় ‘ওয়ার্ল্ড ওয়ারিয়র টুর্নামেন্ট’ নামের একটি ঝুঁকিপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়। তবে কেবল শক্তি প্রদর্শনের লড়াই নয়, এই টুর্নামেন্টের নেপথ্যে লুকিয়ে থাকে গভীর এক আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াইয়ের পাশাপাশি রিউ ও কেনকে নিজেদের অতীত, পুরোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা এবং শেষ পর্যন্ত একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়।
সিনেমাটির অন্যতম মূল আকর্ষণ হলো বাস্তবধর্মী ও চমকপ্রদ মার্শাল আর্টের দৃশ্য। কারাতে, কুংফুর বিভিন্ন কৌশল, দ্রুতগতির লাথি-ঘুষির পাশাপাশি ভিডিও গেমের পরিচিত সিগনেচার আক্রমণগুলোকেও বড় পর্দায় যথাযথভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। নির্মাতারা মূলত ১৯৯০-এর দশকের রঙিন আর্কেড গেমের পরিচিত নস্টালজিয়াকে আধুনিক চলচ্চিত্রের অ্যাকশন কোরিওগ্রাফির সঙ্গে সমন্বিত করেছেন। ‘ব্যাড ট্রিপ’ খ্যাত নির্মাতা কিতাও সাকুরাই প্রচলিত ভিডিও গেমভিত্তিক চলচ্চিত্রের কাঠামোর বাইরে গিয়ে নিজস্ব সৃষ্টিশীল স্বাধীনতা নিয়ে সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন।
আন্তর্জাতিক তারকাদের সমাবেশ চলচ্চিত্রটিকে ঘিরে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন নোয়া সেন্টিনিও ও অ্যান্ড্রু কোজি। জনপ্রিয় হলিউড তারকা জেসন মোমোয়াকে দেখা যাবে গেমের সবুজ চামড়ার অতিপ্রাকৃতিক চরিত্র ব্ল্যাঙ্কার ভূমিকায়। এছাড়া সিনেমায় রয়েছেন রেসলিং তারকা রোমান রেইন্স এবং ভারতীয় অ্যাকশন হিরো বিদ্যুৎ জামওয়াল, যিনি পর্দায় রূপ দিয়েছেন যোগীসুলভ ক্ষমতার অধিকারী ধালসিমের চরিত্রে। এর পাশাপাশি গাইল ও আকুমার মতো গেমের পরিচিত চরিত্রগুলোর নিজস্ব লড়াইয়ের ধরনও দর্শকদের জন্য বিশেষ মাত্রা যোগ করবে।
নব্বইয়ের দশকের আর্কেড নস্টালজিয়া, টানটান চিত্রনাট্য, মার্শাল আর্টের সংঘাত এবং বিশ্বখ্যাত তারকাদের উপস্থিতি—সব মিলিয়ে অ্যাকশনপ্রেমী ও গেমারদের মধ্যে সিনেমাটি নিয়ে ব্যাপক প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সঙ্গে একই দিনে বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর নতুন এই ‘স্ট্রিট ফাইটার’ দর্শকদের কতটা মুগ্ধ করতে পারে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।