সৌদিতে এআই হ্যাকাথনে চ্যাম্পিয়ন ইবি শিক্ষার্থীর দল

সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত এআই হ্যাকাথনে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সায়েম হোসেনের দল। ‘এআই ফর ডিজঅ্যাবিলিটি হ্যাকাথন’-এর ব্যক্তিগত বিভাগে তার উদ্ভাবিত ‘দ্য ওরিয়েন্টাল ব্রেইল প্রজেক্ট’ প্রথম স্থান অর্জন করেছে। এ জন্য পুরস্কার হিসেবে দলটি পেয়েছে ৪৫ হাজার সৌদি রিয়াল, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ১৪ লাখ ৭৮ হাজার টাকার বেশি।
 
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সৌদি আরবের রিয়াদের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। সৌদি রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স সুলতান বিন সালমান আল সৌদের কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন বিজয়ীরা।
 
প্রজেক্টটির সুপারভাইজার হিসেবে ছিলেন সৌদি আরবের ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সৌদ ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. এ কে এম আজাদ। এ ছাড়া দলের সদস্য হিসেবে ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াকুব শাকিল।
 
প্রতিযোগিতায় সৌদি আরবজুড়ে ২ হাজার ২৫১টি প্রজেক্ট জমা পড়ে। চার ধাপের বাছাই শেষে ১৩০টি প্রজেক্ট চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেয়। সেখান থেকে প্রথম স্থান অর্জন করে সায়েমের প্রকল্প। প্রতিযোগিতাটি কিং সালমান সেন্টার ফর ডিজঅ্যাবিলিটি রিসার্চের (কেএসসিডিআর) আয়োজনে সপ্তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধিতা গবেষণা সম্মেলনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়।
 
জানা যায়, ‘দ্য ওরিয়েন্টাল ব্রেইল প্রজেক্ট’ ত্রিমাত্রিক মুদ্রণ (থ্রিডি প্রিন্টিং) প্রযুক্তির মাধ্যমে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য আরবি ভাষা ও কোরআনিক শিক্ষা সহজ করার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে। মূলত প্রচলিত ব্রেইল বইয়ের ডটগুলো অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং তা শেখা এবং শিক্ষাদান অত্যন্ত দুরুহ ব্যাপার৷ তাই অনেক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্রেইলের পাঠ নিতে পারেননা এবং শিক্ষার সুযোগ থেকে ঝরে পড়েন। ‎সেইসাথে ইংরেজি ভাষায় ব্রেইল ভাষার লাইব্রেরি যতটা সমৃদ্ধ; আরবী, বাংলা, উর্দুর ভাষার লাইব্রেরি ততটা সমৃদ্ধ নয়। 
 
‎‎সায়েমের উদ্ভাবিত 'দি ওরিয়েন্টাল ব্রেইল প্রজেক্ট' এসমস্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আরবী ভাষায়, বিশেষত কুরআনিক শিক্ষাকে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সহজ করে তুলবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
 
সায়েম আরও জানান, এ অর্জনের পেছনে তার সুপারভাইজার ড. এ কে এম আজাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। প্রকল্পের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, এআইয়ের কার্যপ্রণালি, স্বয়ংক্রিয়করণ ও উপস্থাপনায় তিনি সহযোগিতা করেছেন। এ ছাড়া দলের সদস্য ইয়াকুব শাকিলও প্রজেক্টের কাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
 
প্রজেক্টটি সম্পর্কে সায়েম হোসেন বলেন, 'বিশ্বের ২৩টি আরবিভাষী দেশ এবং ৫৭টি মুসলিমপ্রধান দেশের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করার চিন্তা থেকেই এ উদ্ভাবনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেসব শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ব্রেইল পাঠ্যসামগ্রী নেই, তাদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করাই তার লক্ষ্য। বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনার সুবাদে প্রতিবন্ধিতা ও পুনর্বাসন নিয়ে কাজ করার আগ্রহ তৈরি হয়। সেই আগ্রহ থেকেই এ বিষয়ে কাজ শুরু করি।'