সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে খুলনা নগরীর বাগমারা তেঁতুলতলা সর্বজনীন পূজা মন্দিরে দেখা গেছে এক অনন্য ও ব্যতিক্রমী আয়োজন। বাংলার চিরায়িত রূপ ও কৃষিজীবী সংস্কৃতির মেলবন্ধনে এবার এই ম-পের প্রতিমাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সোনালি ধানের শৈল্পিক কারুকাজে। শরতের নীল আকাশ আর চারপাশের উৎসবমুখর পরিবেশের সঙ্গে মিল রেখে ম-পটিকে সাজানো হয়েছে গ্রামীণ আবহ ও পাকা ধানের থিম দিয়ে।
জানা গেছে, প্রায় দেড় মাস পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রতিমা শিল্পী নিমাই পাল ও কারিগরদের নিখুঁত ছোঁয়ায় চিনিগুঁড়া ধান, খড় এবং গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা উপাদান ব্যবহার করে প্রতিমার অবয়ব ও ম-পের ভেতরের অংশকে দৃষ্টিনন্দন রূপ দেওয়া হয়েছে। ধান বসানোর পর প্রতিমা রঙ করা হয়েছে। সোনালি ধানের এই বিশেষ কারুকাজ দেখতে ইতিমধ্যেই ম-পে ভিড় জমাচ্ছেন অসংখ্য দর্শনার্থী ও পুণ্যার্থী।
বাগমারা তেঁতুলতলা সর্বজনীন পূজা মন্দিরের সভাপতি রনজিৎ রায় বলেন, কৃষি ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটাতে এবং বাংলার ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতেই এই ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ধান এ দেশের কৃষি ঐতিহ্য ও অস্বিত্বের প্রতীক। তাই ধান দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে প্রতিমার অবয়ব।
বাগমারা তেঁতুলতলা সর্বজনীন পূজা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক সুমন রায় বলেন, খুলনায় নতুন ভাবনায় শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের লক্ষ্যে সোনালি ধানের আবহে বর্ণিল সাজে প্রতিমা নির্মাণ করা হয়েছে। উৎসবের দিনগুলোতে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং সুষ্ঠুভাবে পূজা সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরাও সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছেন।
এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবে খুলনা জেলায় মোট ৯৬৬টি মন্দির-ম-পে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। আজ থেকেই ঢাকের কাঠি আর শঙ্খধ্বনিতে মুখরিত হবে ম-পগুলো। এখন খুলনা জেলা ও শহরজুড়ে চলছে উৎসবের আমেজ। চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে আনন্দের সুবাস। ম-পে ম-পে চলছে দর্শনার্থীদের ভিড়। চলছে আলোকসজ্জা আর তোরণ নির্মাণের চূড়ান্ত ব্যস্ততা।
খুলনা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর খুলনায় মোট ৯৬৬টি ম-পের মধ্যে জেলায় ৮৯০টি ও মহানগরে ৭৬টি ম-পে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হবে। শারদীয় দুর্গোৎসবকে সর্বজনীন ও জাঁকজমকপূর্ণ করতে ম-পগুলোতে নানা বৈচিত্র্যময় থিম, চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা ও দৃষ্টিনন্দন প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে।
খুলনা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিমান সাহা বলেন, ‘বাঙালির শারদ উৎসব এখন বিশ্ব উৎসব। দর্শনার্থীরা রাত-ভোর ম-পে-ম-পে প্রতিমা ও প্যান্ডেল সজ্জা দেখতে ভিড় করেন। এ আয়োজনকে নির্বিঘœ ও শান্তিপূর্ণ করতে খুলনা জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।’
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক বলেন, ‘এবার দুর্গাপূজায় চার স্তরের নিরাপত্তা থাকবে। প্রতিটি ম-পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি ম-পে পুলিশের পেট্রোল টিম থাকবে। অতিরিক্ত স্টাইকিং টিমের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’