১৯ বছর বয়সী সিসের ইতিহাসগড়া হ্যাটট্রিকে পুনর্জাগরণ মিলানের  

ইউরোপা লিগের এবারের আসরের প্রথম ম্যাচে ঘরের মাঠে বেনফিকার কাছে হেরে থমকে যাওয়া এসি মিলান এবার ফিরল চিরচেনা দাপট নিয়ে। প্রতিপক্ষের মাঠে আরবি সালজবুর্গকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ইতালিয়ান পরাশক্তিরা। 

তবে জয় ছাড়িয়ে শিরোনামে উঠে এসেছেন তাদের ১৯ বছর বয়সী তরুণ আলফাদজো সিসে। অস্ট্রিয়ার মাটিতে ম্যাচের শুরুর ৪৯ মিনিটের মধ্যে দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করে এসি মিলান ও ইতালীয় ফুটবলের কয়েক দশকের পুরোনো ইতিহাস নতুন করে লিখেছেন তরুণ এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। 

ম্যাচের শুরু থেকেই সালজবুর্গের রক্ষণভাগকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করে মিলান। প্রথমার্ধের শুরুতেই গোলের খাতা খোলে অতিথিরা। ম্যাচের প্রথম গোলটি আসে বাঁ দিক থেকে আদ্রিয়েন রাবিওটের চমৎকার এক লং পাস থেকে। সেই পাস ধরে নিখুঁত হেডে বল জালে জড়িয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন সিসে। এরপর ৩২ মিনিটে আবারও ব্যবধান বাড়ায় মিলান। এবার বাঁ দিক থেকে বারতেসাগির নিখুঁত ক্রস থেকে দারুণ এক ক্লোজ-রেঞ্জ শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি তুলে নেন এই তরুণ ইতালিয়ান ফরোয়ার্ড।

বিরতির পর খেলায় ফিরতে মরিয়া সালজবুর্গ আবারও গোল হজম করে বসে। ম্যাচের দ্বিতীয় হাফের শুরুতেই রাবিওট ও রুবেন লফটাস-চেকের গড়া আক্রমণ থেকে ডান পায়ে বল জালে পাঠিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সিসে। সালজবুর্গের রক্ষণকে পুরোপুরি বিভ্রান্ত করে করা এই তিন গোলের সুবাদে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় মিলানের মুঠোয়। 

এরপর ম্যাচের শেষ দিকে বদলি হিসেবে মাঠে নামা পর্তুগিজ স্ট্রাইকার গনজালো রামোস মিডফিল্ডার জাশারির নিখুঁত অ্যাসিস্ট থেকে দলের চতুর্থ গোলটি করলে ৪-০ গোলের জয় নিশ্চিত হয়। শেষ মুহূর্তে মিলানের ডিফেন্ডার ফিলিপো তেরাচ্চিয়ানো সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেও তার কোনো ফায়দা তুলতে পারেনি স্বাগতিকরা।

ম্যাচের এই দুর্দান্ত গোলের ঝাপটার পাশাপাশি পুরো ইউরোপজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন ১৯ বছর বয়সী সিসের গড়া ঐতিহাসিক রেকর্ড। সালজবুর্গের বিপক্ষে এই হ্যাটট্রিকই তাকে অমরত্ব দিয়েছে ইতালিয়ান ও ইউরোপীয় ফুটবলে।

১৯ বছর ৩৫৮ দিন বয়সে করা এই হ্যাটট্রিকের সুবাদে সিসে এখন ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী ইতালিয়ান খেলোয়াড় হিসেবে হ্যাটট্রিক করার রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল জিয়ানকার্লো দানোভার দখলে, যিনি ১৯৫৯ সালের সেপ্টেম্বরে ইউরোপিয়ান কাপে অলিম্পিয়াকোসের বিপক্ষে ২০ বছর ৩০৯ দিন বয়সে এসি মিলানের জার্সিতে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। প্রায় ৬৭ বছরের পুরোনো সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়লেন সিসে। 

শুধু তাই নয়, এসি মিলানের জার্সিতেও দীর্ঘ সময় পর এল এমন ইউরোপীয় হ্যাটট্রিক। ২০০২ সালের সেপ্টেম্বরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দেপোর্তিভো লা করুনিয়ার বিপক্ষে ফিলিপো ইনজাগির পর এই প্রথম কোনো মিলান খেলোয়াড় ইউরোপের মঞ্চে এক ম্যাচে তিন গোল করার কীর্তি গড়লেন।

ম্যাচ শেষে তরুণ এই ফরোয়ার্ডের রেকর্ড ভাঙা পারফরম্যান্স নিয়ে নিজের সন্তুষ্টির কথা জানিয়ে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিসে বলেন, ‘এই হ্যাটট্রিক এবং দলের জয়, দুটি নিয়েই আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমি খুব খুশি এবং নিশ্চিতভাবেই এই ফর্ম পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও ধরে রাখব।’ 

তরুণ সিসের ওপর ভরসা রেখে তাঁকে শুরুর একাদশে সুযোগ দিয়ে বাজিমাত করেছেন কোচ রুবেন আমোরিম। ম্যাচের ৬০ মিনিটে সিসেকে তুলে নিয়ে ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচকে নামানোর আগে দলের জয় অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায়। শিষ্যর এমন অবিশ্বাস্য সাফল্যের পর তার ভূয়সী প্রশংসা ও উন্নতির জায়গার কথা মনে করিয়ে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে কোচ আমোরিম বলেন, ‘সে মাঠে যা করে দেখাচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করেই এই খেলার সময়টুকু সে অর্জন করে নিয়েছে। সিসে জানে কীভাবে বিস্ফোরক হতে হয়। তার মধ্যে অনেক তাড়না আছে, তবে অনুশীলনে এবং ম্যাচে এখনো তার অনেক উন্নতি করার জায়গা রয়েছে।’